নবান্নের সামনে ধরনা নয়, ডিভিশন বেঞ্চেও খারিজ শুভেন্দুদের আবেদন

নবান্নের সামনে অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সিঙ্গল বেঞ্চের পর এ বার ডিভিশন বেঞ্চও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির আবেদন খারিজ করল। ফলে নবান্নের সামনে ধরনা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ছাড় পেল না বিজেপি।
বিজেপির তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল, ১৬ জানুয়ারি নবান্নের সামনে ধরনা কর্মসূচি করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি বলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। প্রথমে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ সেই আবেদন খারিজ করেন। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিজেপি ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানায়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখে।
সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে বলা হয়েছিল, প্রত্যেক নাগরিকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে ঠিকই, তবে নবান্ন একটি উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের আওতাভুক্ত এলাকা। সেখানে কর্মসূচি করতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের যে যুক্তি, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। আদালত জানায়, বিকল্প স্থানে কর্মসূচি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নবান্ন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ধরনা করা যাবে। তবে সেই কর্মসূচির উপর একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ধরনায় অংশগ্রহণকারী বিধায়কের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের চলাচল বা যানবাহনের গতিতে কোনও প্রভাব ফেলা যাবে না।
উস্কানিমূলক বা কোনও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি মাইক্রোফোনও ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দদূষণ সংক্রান্ত সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশের বিরোধিতা করে নবান্নের সামনেই ধরনার দাবিতে ডিভিশন বেঞ্চে যান শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেখানেও আবেদন খারিজ হয়ে যায়।