ভাঙার পথে জেলা পরিষদ

হাওড়া জেলা পরিষদে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে উঠেছে। জেলা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়ায় বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার জেলা পরিষদের একাধিক সদস্য সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ায় জেলা পরিষদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের সদস্য তুষার ঘোষের নেতৃত্বে মোট ২৫ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। সেই প্রস্তাব রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত দফতরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্সি বিভাগের হাওড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিভিশনাল কমিশনারের হাতেও অনাস্থা সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

হাওড়া জেলা পরিষদে মোট সদস্য সংখ্যা ৪২। তার মধ্যে ২৫ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পাওয়ায় বর্তমান বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে জেলা পরিষদের বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর জেলা পরিষদের সদস্য তুষার ঘোষ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির কাজকর্ম নিয়ে আমাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই আমরা অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বোর্ডের আর কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব নয় বলেই আমরা মনে করছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, জেলা পরিষদের কাজকর্ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সদস্যদের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এই অনাস্থা প্রস্তাব।

অন্যদিকে, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের কোনও চিঠি এখনও আমাদের হাতে পৌঁছয়নি। যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নোটিস আসে, তাহলে আমরা তার যথাযথ জবাব দেব।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। জেলা পরিষদের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এই সংকট আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন প্রশাসনিক স্তরে অনাস্থা প্রস্তাবের পরবর্তী প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় এবং জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

বোর্ড ভাঙার পরিস্থিতি তৈরি হলে হাওড়া জেলার পঞ্চায়েত প্রশাসনে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী কয়েকদিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে।