ভোটের মুখে ব্যক্তিগত মোটরবাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের আবেদনে সোমবার তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চ একক বেঞ্চের নির্দেশে সামান্য সংশোধন আনলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় অযথা হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
তবে একসঙ্গে দল বেঁধে বাইক মিছিল বা ‘গ্রুপ রাইডিং’-এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। এদিন কমিশনের তরফে আদালতে দাবি করা হয়, ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যক্তিগত বাইক চলাচলেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষত, একাধিক জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বাইকবাহিনীর দাপট নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন আদালতের হস্তক্ষেপ চায়।
শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, ‘একক বেঞ্চের রায়ে ভুল কোথায়? কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। আমার ইচ্ছে হতে পারে আমি বাইকে করে মুক্ত বাতাস নিতে যাব। তাতে বাধা দিতে পারি না।’
বেঞ্চ আরও জানায়, যদি অন্য কোনও রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির নজির দেখাতে পারে নির্বাচন কমিশন, তা হলে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবে। বিচারপতির মন্তব্য, ‘আপনারা দেখান অন্য রাজ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তা হলে আমি নির্দেশ দেব।’
শেষ পর্যন্ত আদালত জানিয়ে দেয়, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করা যাবে। তবে রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শন, ভয় দেখানো বা অশান্তির আশঙ্কা তৈরি করতে দল বেঁধে বাইক নিয়ে রাস্তায় নামা চলবে না। অর্থাৎ, ‘গ্রুপ রাইডিং’-এর উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
ভোটের আগে আদালতের এই নির্দেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আইনমহল। একদিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন, অন্যদিকে নির্বাচনকালে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়— দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই আদালত এই অবস্থান নিয়েছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।