ভোটের দিন ভাঙড়ে কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের একটি দল। উদ্দেশ্য একটাই—সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা।
সম্প্রতি ভাঙড়ে ৭৯টি তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রথমে এই ঘটনায় উত্তর কাশী থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব নেয় এনআইএ। ভোটের মাত্র দুই দিন আগেই কেন্দ্রীয় সংস্থা এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং ভোটের দিনও সেই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়।
এদিন সকাল থেকে ঘটকপুকুর, বিজয়গঞ্জ বাজার, প্রাণগঞ্জ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দেয় এনআইএ-র দল। আধিকারিকরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করেন। যদিও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।
ভাঙড়ে বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং বোমাবাজির ঘটনা নতুন নয়—এই প্রেক্ষাপটে ভোট নির্বিঘ্ন করতে আগেভাগেই সক্রিয় হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। কমিশনের তরফে বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব মামলার তদন্ত এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তভার পাওয়ার পর থেকেই প্রায় প্রতিদিন ভাঙড়ে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এনআইএ। ভোটের দিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল থেকেই আধিকারিকদের উপস্থিতি এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে প্রশাসন চেষ্টা করছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।