পর্যটনের মরশুমে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক রাতে বন্ধ থাকবে, কতদিন ও কেন এমন সিদ্ধান্ত?

NH-10 Road Photo-SNS

সামনেই দুর্গাপুজো। অনেকেই এই ছুটির মরশুমে পাহাড়ে যাবেন বলে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। শুধু যে দার্জিলিং তা নয়, কালিম্পং, কার্শিয়াং থেকে শুরু করে সিকিম সব জায়গায় ইতিমধ্যেই হোটেল বুকিং হয়ে গিয়েছে। সুতরাং পর্যটনের দিক থেকেও ভরা মরশুম। এই আবহে সিকিম, কালিম্পংয়ের লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ রাখার সময়সীমা পরিবর্তন করল ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। তারা সন্ধ্যা ৭টার বদলে রাত ৯টায় বন্ধ করবে জাতীয় সড়কের দুটি জায়গা-২৯ মাইল এবং রবিঝোরা। বন্ধ করার কারণ বিপজ্জনক সংশ্লিষ্ট দুটি অংশে সংস্কার কাজ হবে।

এই আবহে কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি রাস্তায় ২০০ ফুট খাদে পড়ল গাড়ি। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। আহত আরও পাঁচজন। তাঁরা সকলেই উত্তরবঙ্গের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে খবর। এবার প্রথম পর্যায়ে আগামী বুধবার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাতভর সংশ্লিষ্ট জাতীয় সড়কের অংশ বন্ধ থাকবে। দুর্গাপুজোর মুখে এই নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বেশি রাতে অথবা পর্যটন ব্যবসার অফ সিজেনে ওই কাজ করার দাবি তুলেছেন। তবে এই বিষয়ে কালিম্পংয়ের জেলাশাসক কুহুক ভূষণ বলেন, ‘পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন মেরামোতির জন্য রাস্তা বন্ধ রাখার সময় সন্ধ্যা ৭টার বদলে রাত ৯টা করেছে। এই নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে প্রশাসনের কাছে জানাবেন। আলোচনা করা হবে।’

শিলিগুড়ির সঙ্গে কালিম্পং এবং সিকিমের সরাসরি সংযোগ রক্ষা করে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। তাই এই জাতীয় সড়ক কালিম্পং এবং সিকিমের লাইনলাইন হিসাবে পরিচিত। এখানে সেভক থেকে রংপো পর্যন্ত অংশ কালিম্পং জেলার অধীনে। একদিকে পাহাড়। অপরদিকে তিস্তা নদী। ধস এবং তিস্তা নদীর ধাক্কায় রাস্তাটির ২৯ মাইল ও রবিঝোরা অংশ বিপর্যস্ত। তাই সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছে এনএইচআইডিসিএল। ওই দুটি জায়গার একাংশ নদীর খাদের দিকে ধসে গিয়েছে। সুতরাং রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। আর পাহাড়ের উঁচু অংশ থেকে পাথর, নুড়ি, মাটি পড়ছে। তাই বুধবার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাতভর যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যান চলাচল। এমনকী ২৬ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই রাস্তা বন্ধ রাখা হবে।


তাছাড়া ওই মেরামতের কাজ পাহাড়ের ধারে হবে। তাই দিনে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও রাতে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্যই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ওখানকার ব্যবসায়ীদের মতে, এখন পর্যটনের ভরা মরশুম। তাই ওই কাজ মাঝরাতে করলে পর্যটক-সহ ট্যুর অপারেটর, গাইড, হোটেল এবং হোমস্টে মালিক, গাড়ি চালক সকলের সুবিধা হয়।