পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে সোমবার ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিলেন। লোকভবনে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। রাজ্যপাল আরএন রবি তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪১।
এদিন পূর্ণমন্ত্রী বা ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তাপস রায়, মনোজ ওরাওঁ, অর্জুন সিংহ, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, দীপক বর্মন, শরদ্বত মুখোপাধ্যায়, অরূপ কুমার দাস, স্বপন দাশগুপ্ত, কল্যাণ চক্রবর্তী, শঙ্কর ঘোষ এবং দুধকুমার মণ্ডল। বিজেপি সরকারের এই সম্প্রসারণে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মালতি রাভা রায়, রাজেশ মাহাতো এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পান অশোক দিন্ডা, কৌশিক চৌধুরী, জুয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, শান্তনু প্রামাণিক, উমেশ রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘোরামি, নাদিয়ার চাঁদ বাউরি, গার্গী দাস ঘোষ, অমিয় কিস্কু, কালিতা মাজি, বিরাজ বিশ্বাস, সুমনা সরকার, আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা এবং দীপঙ্কর জানা-সহ আরও অনেকে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অধিকাংশ নতুন মন্ত্রীকে ধুতি-পাঞ্জাবি ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ফলে লোকভবনে রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশও তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় আরও পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শপথের পরই তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল।
সোমবারের সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিজেপি সরকার প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিল। যদিও নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে কে কোন দফতরের দায়িত্ব পাবেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দফতর বণ্টন নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা রাজ্যের উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।