পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পরই রাজ্যের উন্নয়ন, নারী নিরাপত্তা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নিজেদের অগ্রাধিকারের কথা জানাতে শুরু করলেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কেরা। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে একাধিক বিধায়ক তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবসানের পর বিজেপি নেতৃত্ব নতুন প্রশাসনকে ‘পরিবর্তনের সরকার’ হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে।
পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নিজের ৩১ বছরের কন্যাকে হারিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। শনিবার শপথ অনুষ্ঠানে এসে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র লক্ষ্য, আর কোনও মেয়েকে যেন আমার মেয়ের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হতে না হয়।’
রত্না দেবনাথের কথায়, রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র বা কোনও জনসমাগমের জায়গা— সর্বত্র নারীরা যাতে নিরাপদ বোধ করেন, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে চাই। হয়তো পথ দীর্ঘ, কিন্তু আমি সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।’
এদিকে বরানগরের বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর সজল ঘোষ শহরের নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলার নতুন সূচনার দিন। শহরের রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং পথবাতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’ সজল ঘোষ আরও জানান, বেআইনি জমি হস্তান্তর এবং অবৈধ নির্মাণ নিয়েও তদন্ত করা হবে। তবে সরকার সদ্য দায়িত্ব নিয়েছে, তাই ধাপে ধাপে সমস্ত সমস্যা মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক দেবাশিস ধর আইনশৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন— দু’দিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারের সময় সাধারণ মানুষের সমস্যা এবং চাহিদার কথা তিনি মন দিয়ে শুনেছেন এবং সেগুলি সমাধানের চেষ্টা করবেন।
দেবাশিস ধরের কথায়, ‘প্রথমে নিজের বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের কাজ শুরু করব। মানুষের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি সমাধানের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার উপর মানুষের আস্থা ফেরানোও নতুন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রায় ৭৯ বছর পরে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের সামনে যেমন বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণ করারও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।