‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে নয়া অভিযোগ, স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত স্বাস্থ্য ভবনের

MP Abhishek Banerjee File Photo

‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি ক্ষমতায় থাকাকালীন ছিল, ডায়মন্ডহারবার মডেল। আর তা নিয়েই একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এবার যে অভিযোগ উঠেছে তাতে অস্বস্তি বাড়ল ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার নয়া অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায়। আর এই অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। এই ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে একাধিক আইন ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। জনস্বার্থ এবং গোপনীয়তা ভঙ্গ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সঙ্গেই অভিষেকের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, ফলতার জাহাঙ্গির খান-সহ বেশ কয়েকজনের নামেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এবার এফআইআর করল। তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের হল বিষ্ণুপুর থানায়।

এদিকে ‘সেবাশ্রয়’ ১ এবং ‘সেবাশ্রয়’ ২ শিবির ডায়মন্ডহারবারে হয়েছিল। সেখানে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আইন ভাঙা নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়। তার মধ্যেই সরকারি হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও সেখানে না গিয়ে সাংসদের স্বাস্থ্য শিবির ‘সেবাশ্রয়’–এ দেখা গিয়েছিল চিকিৎসকদের ভিড়। তার জন্য কি সরকারি কোনও অর্ডার জারি হয়েছিল? নাকি কোনও বড় আধিকারিকের নির্দেশে ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ে হাজির হয়েছিলেন চিকিৎসকরা? এইসব প্রশ্নের খোঁজে তদন্ত শুরু করল স্বাস্থ্য দপ্তর।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারা, অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১৭ নম্বর ধারা (সংশোধিত), পিসিপিএনডিটি অ্যাক্টের ২৩(১)/২৩(২)/২৫ নম্বর ধারা (সংশোধিত), এনএমসি অ্যাক্টের ৩৪ নম্বর ধারা এবং ডব্লিউবি ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্টের ৪১ নম্বর ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নানা গুরুত্বপূর্ণ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিজিৎ অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নানা সভা, সমাবেশে প্রকাশ্যে দাবি করেছেন তিনি সেবাশ্রয়-১ এবং সেবাশ্রয়-২ ক্যাম্প করেছেন। এই ক্যাম্পের আয়োজন, অর্থনৈতিক সাহায্য-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি সামলেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানেই এই ক্যাম্প হয়েছে। পরিকল্পনা, আয়োজন, প্রচার, অর্থের ব্যবস্থা এবং বাস্তবায়ন-সহ নানা দিক নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন।


তাছাড়া অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ক্যাম্পগুলির আয়োজন এবং বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দিকটি দেখেছিলেন। সুমিতের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা, দায়িত্ব খতিয়ে দেখার প্রয়োজন। বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এবং ফলতার জাহাঙ্গির খানরা আয়োজক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমনকী শামিম আহমেদ, বাবান গাজি-সহ অন্যান্যদের নামে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। এই বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘কার আদেশে কোন কোন স্বাস্থ্যকর্তারা উপস্থিত ছিলেন সেবাশ্রয় শিবিরে, স্বাস্থ্য দপ্তরের কারা সেবাশ্রয়ে জড়িত ছিলেন? তদন্ত করে দেখা হবে। ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভায় সাত দফায় চলে এই সেবাশ্রয় শিবির। যেখানে আল্ট্রোসোনোগ্রাফি থেকে শুরু করে এক্সরে সহ–নানা পরীক্ষা হতো। তাই ওনাকে আগাম জেল যাত্রার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখলাম।’