দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীতে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে যাঁরা উত্তরবঙ্গ সফরে যেতে চাইছেন। দুর্গাপুজোর ছুটিতে সেরা ডেস্টিনেশন উত্তরবঙ্গ। একদিকে দার্জিলিং পাহাড় অপরদিকে ডুয়ার্সের জঙ্গল সাফারি। আগাম যাঁরা টিকিট কেটে রেখেছিলেন তাঁরা সফর করছেন। কদিন আগে এবং এখন যাঁরা টিকিট কাটতে চেয়েছেন তাঁরা তা পাননি। ভ্রমণপিপাসু বাঙালির একটা বড় অংশ তাই উত্তরবঙ্গ যেতে পারছেন না। আবার দুর্গাপুজোর ছুটিতে বাড়ি ফিরছেন সরকারি বেসরকারি অফিসের কর্মীরাও। সুতরাং উত্তরবঙ্গে আসা এবং এখান থেকে যাওয়ার ট্রেনগুলিতে জায়গা নেই। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
শিয়ালদহ, হাওড়া, কলকাতা স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গগামী কোনও ট্রেনেরই টিকিট নেই। কিন্তু যাত্রী চাহিদা বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতি দেখে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের একাধিক রুটে প্রায় ৩০টি বাস নামাল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি)। তাতে কি এই বিপুল চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও ট্রেনের টিকিট না পেলে বাসই বিকল্প যাতায়াতের মাধ্যম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই এই বিষয়ে এনবিএসটিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশ্বিনীকুমার রায় বলেন, ‘কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালদহ, কোচবিহার-সহ নানা রুটে প্রচুর বাস নামানো হচ্ছে। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বাস নামানো হতে পারে।’
বহু পর্যটক আছেন যাঁরা দুর্গাপুজোর মাঝখানে শৈলশহরে যেতে চান। অনেকে আবার অনলাইনে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে জঙ্গল সাফারির অনলাইনে টিকিট কেটে ফেলেছেন। কিন্তু ট্রেনের টিকিট নেই। তাই বাস ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয়। সারাবছর কোচবিহার, শিলিগুড়ি, বালুরঘাট, রায়গঞ্জ, মালদহ থেকে কলকাতাগামী আটটি বাস চলাচল করে। সেখানে পর্যটকদের চাহিদা তুঙ্গে থাকায় চতুর্থী থেকে বাসের সংখ্যাটা বাড়িয়ে এক লাফে ৩০ করা হয়েছে। তার মধ্যে বেশকিছু বাস এসি এবং এসসি স্লিপার কোচ। বাকি বাস নন এসি।
তাছাড়া উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম সূত্রে খবর, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গে এখন বেশি মানুষ আসছে। তাই বাড়তি বাসগুলি কলকাতা থেকেই ছাড়া হচ্ছে। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির জন্য ছাড়া হচ্ছে ১৮টি বাস। আবার কিছু বাস শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস হয়ে জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, আলিপুরদুয়ার যাবে। মালদহ, বালুরঘাট এবং রায়গঞ্জের জন্য কলকাতা থেকে প্রত্যেকদিন দুটি করে বাস ছাড়ছে। কলকাতা থেকে কোচবিহারের জন্য পাঁচটি আলাদা বাস ছাড়ছে। এই বাড়তি বাস পরিষেবা নবমী পর্যন্ত চলবে। তবে ২১ অক্টোবর দশমী হওয়ায় অনেকেই ছুটি কাটিয়ে পরদিন কলকাতায় ফিরবেন। তখন আবার বাসের চাহিদা বেড়ে যাবে।