কাটোয়ায় মোদীর সভা, জেলায় জেলায় মমতা-অভিষেকের ঝড়, হাইভোল্টেজ প্রচারে উত্তপ্ত বাংলা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ভোটের আগে শনিবার রাজ্যে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। একদিকে কাটোয়ায় জনসভা করে আক্রমণাত্মক সুরে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অন্যদিকে পাল্টা প্রচারে জেলায় জেলায় ঝড় তুলতে মাঠে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘তিন রাজ্যের নির্বাচনে কোনও হিংসা ছাড়াই বিপুল ভোটদান হয়েছে। এর জন্য আমি নির্বাচন কমিশনকে শুভেচ্ছা জানাই।’ তিনি আরও দাবি করেন, যেখানে বেশি সংখ্যায় মহিলা ভোটার অংশ নিয়েছেন, সেখানেই বিজেপি জয় পেয়েছে।

সভায় জনসমাগম নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মোদী বলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় যে ভিড় দেখেছি, তাতে আমি আপ্লুত। গুজরাতেও এমন সভা করা সম্ভব নয়।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই জনসমর্থনই আসন্ন ফলাফলের পূর্বাভাস। তাঁর কথায়, ‘এই সভার উৎসাহই আগামী ফলের ট্রেলার।’ এ দিন রাজ্যে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। কাটোয়ার পর মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে আরও দুটি জনসভা করার কথা প্রধানমন্ত্রীর।


অন্যদিকে, পাল্টা প্রচারে জোর দিয়েছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন কেশিয়াড়ি, ঝাড়গ্রাম এবং বড়জোড়ায় একাধিক জনসভায় অংশ নিচ্ছেন। রাজ্যের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে সামনে রেখেই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ব্যস্ততম সূচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, বীরভূমের সাঁইথিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে তাঁর সভা ও রোড-শোর কর্মসূচি রয়েছে। কর্মী-সমর্থকদের উন্মাদনা ঘিরে এই সফর ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

এদিকে জঙ্গলমহলেও বিজেপির জোরদার প্রচার চলছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় একাধিক জনসভায় অংশ নিচ্ছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই হাইভোল্টেজ প্রচার বাংলার রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।