ত্রাণের শাড়ি ও মশারিতে ঠাসা প্রাক্তন বিধায়কের গুদাম

পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার অন্ডালের বাঁকোলা এলাকায় তাঁর বাসভবন সংলগ্ন ওই গুদামঘর ঘিরে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাও।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিক্ষুব্ধ জনতা গুদামের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে মজুত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ শাড়ি, ত্রিপল, মশারি, স্কুলপড়ুয়াদের পোশাক-সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী দেখতে পান তাঁরা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

অভিযোগ, দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারি উদ্যোগে যে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ ওই গুদামে দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে ত্রাণ পৌঁছে না দিয়ে তা অন্যত্র বিক্রি করা হত। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।


গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ত্রাণের শাড়ি, মশারি, ত্রিপল এবং ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ইউনিফর্ম। এছাড়াও গুদামের একটি কক্ষ থেকে কিছু কন্ডোমের প্যাকেটও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় আরও জল্পনা শুরু হয়েছে।

এক বিক্ষোভকারী দাবি করেন, “আমরা এখানে এসে দেখেছি গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ জিনিসপত্র বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে রাখা হয়েছে। যাঁদের এই সামগ্রী পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা কিছুই পাননি। ত্রিপল, মশারি, শাড়ি— সবই গুদামে মজুত ছিল। এমনকি চাল-ডালও অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।”

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন জেলায় একাধিক তৃণমূল নেতার বাড়ি, ক্লাব বা অফিস থেকে ত্রাণসামগ্রী মজুত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই একাধিক ক্ষেত্রে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ধরপাকড়ও চলছে।

অন্ডালের এই ঘটনাও সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস, সেগুলি কীভাবে সেখানে এল এবং প্রকৃতপক্ষে কোনও দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।