পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরই দেখা গেল রাজনৈতিক টুইস্ট। কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার হয়ে গেলেন। তাও আবার পুরনো মামলায়। সেটাও আবার খুনের মামলা। কংগ্রেস যেদিন প্রার্থী ঘোষণা করেছিল সেদিন থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করতেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই নিয়ে প্রচণ্ড চাপে পড়ে গিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। নন্দীগ্রাম বিজেপির কাছে সেফ সিট। তারপরও এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে শুক্রবার নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। একদিকে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন। তবে তার আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে গিয়ে বৈঠক করেন। তারপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, নন্দীগ্রামে তাঁরা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবেন। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরনো একটি খুনের মামলায় মিলনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার তাঁকে হলদিয়া আদালতে হাজির করা হতে পারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন একটি পুরনো খুনের মামলায় অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও ছিল। সেই মামলার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শনিবারই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে নন্দীগ্রামে বিরোধী প্রার্থীর গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস।
এই বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেন, ‘হঠাৎ করে মামলা হল। এইভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি।’ তাঁর দাবি, ভোটের আগে বিরোধী রাজনীতি বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। যদিও বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে পুলিশ তার কাজ করেছে। এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন সঞ্চিতা। যদিও শুক্রবার তিনি প্রার্থীপদ থেকে সরে দাঁড়ান। ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এহেতাশ মুল হক। পাশাপাশি সিপিআই ও আইএসএফও প্রার্থী দিয়েছে।