চূড়ান্ত তালিকায় বিবেচনাধীন লিস্টে নাম

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ দেখে আতঙ্ক ছড়াল মগরাহাটের উস্তি থানার ঘোলা নয়াপাড়া এলাকায়। আর এই আতঙ্কে দুশ্চিন্তার জেরে আত্মঘাতী হলেন নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিক আলি গাজী। মঙ্গলবার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন পেশায় ভ্যানচালক ৪৪ বছরের রফিক। রাতেই উদ্ধার করা হয় রফিকের দেহ।
পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন লিস্টে তাঁর নাম থাকায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন রফিক। কেন তাঁর নাম সেই লিস্টে, তাঁকে পরিবার ছেড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকতে হবে না তো, এই আতঙ্কেই রফিক আত্মঘাতী হয়েছেন। মৃত্যুর খবর পেয়েই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

গত শনিবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এই তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। আবার প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থির ঘোলা নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিক। তিনি মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। তাঁর কাছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবই রয়েছে।

এর আগেও তিনি একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। এসআইআরের এনুমারেশন ফর্ম পূরণের সময় যা যা নথিপত্র ও তথ্য দিতে হত সবই তিনি জমা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে রফিকের পরিবারের সদস্যরা। শুনানিতেও প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় বিবেচনাধীন লিস্টে নাম রয়েছে রফিকের। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। এরপরেই মঙ্গলবার রাতে তিনি আত্মঘাতী হন।

মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে রফিকের দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের তরফে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। রফিকের মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী আমিনা বিবির অভিযোগ, ‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানিতে সমস্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও ভোটার লিস্টে নামের পাশে লেখা ছিল বিচারাধীন। এরপর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি।’

মানসিক অবসাদের জেরেই এই কাজ করেছেন বলে দাবি তাঁর স্ত্রীর। স্বামীহারা হয়ে এখন দুই ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমিনা। রফিকের মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পরিবার থেকে প্রতিবেশীরা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্থানীয় উস্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের স্ত্রী আমিনা বিবি। যেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং সিইও মনোজ আগরওয়ালের নাম রয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
বুধবার রফিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রফিক আলি গাজীর মৃতদেহ নিয়ে উস্তিতে পথ অবরোধ করে অবস্থান বিক্ষোভ করে তৃণমূল কংগ্রেস। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর সামিম আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ। উস্তির ৩ মাথা মোড়ে মৃতদেহ নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা। সব মিলিয়ে রফিকের মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকা ও রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

রফিকের মৃত্যুতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মগরাহাট পশ্চিমের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ইমরান হাসান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের একের পর এক তুঘলকি সিদ্ধান্তের জেরেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু প্রান্তিক মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। রফিক আলির মৃত্যু নির্বাচন কমিশনের সেই তুঘলকি সিদ্ধান্তের আরও একটি নজির হয়ে রইল।’ আবার বিজেপি নেতা সুফল খাটু বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে তদন্তের আগেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৃণমূল গল্প বাঁধছে।’