ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে, অথচ সেই ব্যক্তিকেই ভোট পরিচালনার দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে— এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে মালদার মোথাবাড়ি বিধানসভা এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম বাদ পড়েছে মহম্মদ তৌসিফ জামালের। তিনি মিলকি ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে জেনারেল ডিউটি অ্যাটেনডেন্ট পদে কর্মরত। কর্মসূত্রে তিনি সরকারি কোয়ার্টারেই থাকেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, নাম বাদ পড়ার পরেও তাঁকেই আসন্ন নির্বাচনে তৃতীয় পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি গত ১৯ মার্চ তাঁকে ভোটের ট্রেনিং নেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। নির্দেশ মেনে তিনি মালদা টাউন হাইস্কুলে গিয়ে ট্রেনিংও নেন।
সেখানে গিয়ে নিজের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কোনও স্পষ্ট উত্তর পাননি বলে অভিযোগ তৌসিফের। তৌসিফ জামালের কথায়, ‘২০১৭ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে পাঁচ বার ভোটের কাজে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এবার দেখি, আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাকেই আবার ভোট নেওয়ার কাজে তৃতীয় পোলিং অফিসার হিসেবে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। আমি যদি বৈধ ভোটার না হই, তবে কীভাবে আমাকে দিয়ে ভোট গ্রহণ করানো হবে?’
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে— একজন ব্যক্তি যদি ভোটার হিসেবেই তালিকাভুক্ত না থাকেন, তবে তিনি কীভাবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন? বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
আইনজীবী সরিফুল আলমও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তৌসিফ জামাল পাঁচ বার ভোটকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। অথচ তাঁর নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার তাকেই ভোট পরিচালনার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি, দ্রুত বৈধ নাগরিকদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এছাড়াও তালিকায় নাম ওঠেনি আরও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের। তাঁদের অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় রাখা হয়। এরপর ২৩, ২৭, ২৮ ও ২৯ মার্চ মধ্যরাতে পরপর চারটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকা থেকেই বাদ পড়েছেন মহম্মদ তৌসিফ জামাল।
সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠেছে ভোটার তালিকার যথার্থতা ও নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়েও।