অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকল না অ্যাকাউন্টে, ক্ষোভে নদিয়া জেলায় মহিলাদের বিক্ষোভ

PIC- SNS

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য প্রাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকার কথা। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে জেলায় জেলায়। নদিয়া থেকে মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর—বিভিন্ন জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে পথে নেমেছেন মহিলারা। কোথাও পুরসভায় বিক্ষোভ, কোথাও প্রশাসনিক দফতর ঘেরাও, আবার কোথাও রেল অবরোধ করে প্রতিবাদ করেছেন তাঁরা।

শুক্রবার নদিয়ার কল্যাণী পৌরসভায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান একাধিক মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ-সহ সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরেও এখনও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকেনি। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। কেন এখনও টাকা ঢোকেনি, সেই প্রশ্ন তুলে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

এর পর কল্যাণী পৌরসভার সামনে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন মহিলারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কল্যাণী থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এই বিক্ষোভ।


অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে নদিয়ার শান্তিপুর বিডিও অফিসেও বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। একই অভিযোগে বিরাটি স্টেশনে রেল অবরোধ করে প্রতিবাদ করেন একদল মহিলা।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটেও বৃহস্পতিবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, ২০ অগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনও যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা না ঢুকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই আশ্বাসের পরেও বৃহস্পতিবার দুপুরে বালুরঘাটের মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান টাকা না-পাওয়া কয়েক জন মহিলা।

বিক্ষোভকারী মহিলাদের একাংশ এসডিও অফিসের গেট জোর করে খুলে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠলে শেষপর্যন্ত এসডিও অফিসের মূল প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। কয়েক জন মহিলা দরজায় কিল-চড় মারতে শুরু করেন। পরে বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকায় উত্তেজনা বজায় ছিল।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন না। তাঁদের প্রশ্ন, অন্য অনেকেই যখন টাকা পাচ্ছেন, তখন তাঁদের নাম কেন বাদ পড়ল?

মালদহের ইংলিশবাজার পুরসভাতেও বৃহস্পতিবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, পরিষেবা পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের অনেকের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কারও স্বামী সব্জি বিক্রি করেন, কেউ আবার ফুটপাতে ছোট দোকান চালিয়ে সংসার চালান। অনেকের বাড়িও টালির। তাঁদের দাবি, সরকারি মাপকাঠিতে তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও টাকা পাচ্ছেন না।

কেন টাকা ঢুকছে না, তা জানতে পুরসভায় এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারী মহিলাদের আরও অভিযোগ, টাকা না ঢোকার কারণ হিসেবে তাঁদের পরিবারের বাড়িতে তিনটি ঘর থাকার কথা দেখানো হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা যদি ৮ থেকে ১০ জন হয়, তাহলে কি সকলকে একটি ঘরেই থাকতে হবে? বাড়িতে কয়েকটি ঘর থাকলেই যে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো, এমন নয় বলেই দাবি তাঁদের।

সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় বাড়ছে ক্ষোভ। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর দাবি জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।