নিপা সংক্রমণ রুখতে রাজ্যকে সাহায্যের বার্তা নাড্ডার, মমতাকে ফোন

২০০১ সালের পর বাংলায় ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। সোমবার দু’জন নার্সের শরীরে মিলেছে নিপার ভাইরাস। তাঁরা এখন বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। পূর্ব মেদিনীপুরে আরও একজনের সংক্রমণ হয়েছে বলে খবর মিলেছে। আক্রান্তদের আশপাশের মানুষজনকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল কেন্দ্র। রাজ্যকে সব রকম প্রযুক্তিগত, পরিকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। সম্ভাব্য সংক্রমণ রুখতে কোনও রকম ঘাটতি রাখা হবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তিনি জানিয়েছেন, বাংলায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যে ল্যাবরেটরি পরিকাঠামো, নজরদারি, আপৎকালীন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে যে কোনও প্রয়োজনে তাঁরা ছুটে যেতে পারে।

নিপা সংক্রমণের খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় শুরু হয়েছে। ল্যাবরেটরি সহায়তা জোরদার করা হয়েছে, নজরদারি বাড়ানো হয়েছে সংক্রমণ-প্রবণ এলাকাগুলিতে। একই সঙ্গে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্ত প্রোটোকল কার্যকর করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দলও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করেছে।


সোমবার নদিয়ার কল্যাণী এইমসে ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে দু’জন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দু’জনেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক বলে জানিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, নিপা একটি জুনোটিক রোগ। প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এর মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। তাই গোটা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত দু’জন সম্প্রতি ব্যক্তিগত কাজে পূর্ব বর্ধমানে গিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরেই উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া– এই তিন জেলায় জোরদার কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু হয়েছে।

নিপা মোকাবিলায় জাতীয় স্তরে একটি যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।  রাজ্য সরকার ও স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এই দল। সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি মূল্যায়ন, সংক্রমণের উৎস খোঁজা এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, নিপা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর বা এসওপি রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ সম্ভব হয়।

সোমবারই বিষয়টি নিয়ে নবান্ন ও রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে সতর্ক বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন,গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি বিশেষ দল বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে। নিপা সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই রাজ্যের তরফে দু’টি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে – ০৩৩২৩৩৩০১৮০ এবং ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্যও আলাদা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তৈরি করা হচ্ছে।