সিআইডি থেকে সরানো হল সুপ্রতিমকে, কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল

Photo: ANI & Facebook

রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের মোট ৩৩ জন আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস অফিসারকে বদল করল নবান্ন। সিআইডির বর্তমান এডিজি ও আইজিপি সুপ্রতিম সরকারের দায়িত্ব বদল করা হয়েছে। রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের দক্ষ পুলিশ কর্তা সুপ্রতিম সরকারকে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আইপিএস অফিসার প্রবীণ ত্রিপাঠীকেও কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়েছে।

কলকাতার প্রাক্তন সিপি সুপ্রতিম সরকারকে সিআইডির শীর্ষপদ থেকে সরিয়ে টেলিকমিউনিকেশন দপ্তরের এডিজি করা হয়েছে। ডিজি, কারেকশনাল সার্ভিসেস ছিলেন নটরাজন রমেশ বাবু। এবার আইপিএস অফিসার নটরাজন রমেশ বাবুকে রাজ্য অপরাধ দমন শাখার ডিজি ও আইজিপি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সংশোধনাগার দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। তবে নতুন পদের পাশাপাশি তিনি তাঁর আগের দপ্তরের দায়িত্বও সামলাবেন।

আইপিএস অফিসার ত্রিপুরারি অর্থবকে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা দপ্তরের এডিজি করা হয়েছে। রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি পদে থাকা অমিতকুমার রাঠৌরকে বিধাননগরের নতুন সিপি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন পিনাকী দত্ত। এবার তাঁর জায়গায় অতীশ বিশ্বাসকে আনা হয়েছে। অতীশ বিশ্বাস পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন। পিনাকী দত্ত পেলেন অ্যাডিশনাল এসপি ডিআইবি।


উত্তরবঙ্গ রেঞ্জের এডিজি ও আইজিপি কে জয়রামনকে রাজ্য অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখার ডিরেক্টর পদে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর জায়গায় উত্তরবঙ্গ রেঞ্জের নতুন আইজিপি হলেন সুকেশ কুমার জৈন। দার্জিলিংয়ের বর্তমান পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়াকে কলকাতার প্রথম ব্যাটালিয়নের ডিসি পদে আনা হয়েছে। প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়ার জায়গায় দার্জিলিংয়ের এসপি হলেন ওয়াই শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাও। জসপ্রীত সিং-কে রাজ্য পুলিশের সিসিডব্লিউ এসবি পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় কোচবিহারের নতুন পুলিশ সুপার হচ্ছেন ডিসি মণীশ জোশী।

কলকাতায় ইস্টার্ন ডিভিশনের নতুন ডিসি পদে নিযুক্ত হলেন অরিন্দম সরকার। অন্যদিকে, সাইবার ক্রাইম বিভাগের নতুন ডিসি হলেন প্রদীপ কুমার যাদব। তবে হঠাৎ এই রদবদলের পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের? প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পটপরিবর্তন করতেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে আসলে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।