রাজ্যের বিভিন্ন বোর্ড, সংস্থা, নিগম এবং সরকারি উদ্যোগে থাকা মনোনীত সদস্য, চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টরদের মেয়াদ অবিলম্বে সমাপ্ত করার নির্দেশ দিল নবান্ন। একই সঙ্গে অবসর গ্রহণের বয়স পেরিয়ে পুনর্নিয়োগ বা পরিষেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে কাজ করে চলা আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও পরিষেবা সমাপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার জারি হওয়া নবান্নের এক বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে ।
নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সমন্বয় শাখা থেকে জারি হওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে থাকা অ-সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, সংগঠন এবং সরকারি উদ্যোগে মনোনীত সদস্য, চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টরদের কার্যকাল অবিলম্বে শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুধু তাই নয়, ৬০ বছরের অবসর গ্রহণের বয়স পেরিয়ে যাঁরা পুনর্নিয়োগ বা পরিষেবা বৃদ্ধির ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও অবিলম্বে পরিষেবা সমাপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘যোগ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে’ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় রদবদলের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের একাধিক বোর্ড, কর্পোরেশন ও সরকারি সংস্থায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নিয়োগ এবং পুনর্নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নবান্নের এই নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও সরকারিভাবে এখনও বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন ভারসাম্য তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন বোর্ড ও সরকারি সংস্থায় দ্রুত নতুন নিয়োগ এবং দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, সমস্ত দপ্তরকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বড়সড় পরিবর্তনের ছবি সামনে আসতে পারে।