রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফরকে ঘিরে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, রবিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের কাছে সংশ্লিষ্ট নথি ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ পাঠিয়েছেন। ওই রিপোর্টে রাষ্ট্রপতির সফরের সময়কার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, তাও স্পষ্ট করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন যে ঘটনার পুরো ক্রম ও প্রাসঙ্গিক নথি-সহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে তথ্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি সফরের সময় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী ও সাঁওতাল সম্মেলনের স্থান পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কেও কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে।
গত ৭ মার্চ রাষ্ট্রপতি মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফরের পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় উষ্মা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মমতাদি আমার ছোট বোন, জানি না আমার উপর কেন রাগ করে আছেন।‘ তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফরের কথা জানা থাকলেও অনুষ্ঠানের আয়োজক কারা বা তার উদ্দেশ্য কী—সে সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এবং পরে প্রকাশ্যেও মন্তব্য করেন যে রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত ও বিদায় জানানোর জন্য কারা উপস্থিত থাকবেন, তা আগেই রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত ছিল, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ছিল না। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যে ‘ব্লু বুক’ প্রোটোকল লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ তুলেছিল, সেই বিষয়েও রিপোর্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।