আগামী ২১ জুন ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’। সেদিন পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তাই সব সরকারি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে পালন করতে হবে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’। সোমবার এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে নবান্ন থেকে। এখন রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার। তার সুফল পেতে শুরু করেছে বলে আগেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভায় পা রেখে সব কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তারপরই এই নির্দেশিকা সামনে এল। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কী আছে ওই নির্দেশিকায়? নবান্ন থেকে জারি করা নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিত হতে হবে তাঁদের সংশ্লিষ্ট দফতর, আবাসন, রেড রোড অথবা মিলন মেলা প্রাঙ্গণে। কারণ ওই দিন কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পালন করা হবে যোগ দিবস। এই প্রথম যোগ দিবসে কলকাতায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্বচ্ছতার অভিযান যেমন পালন করা হবে তেমন যোগ পালনে সুস্থতার বার্তা দেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কিন্তু ওই নির্দেশিকায় ১৪ জুন তারিখ লেখা রয়েছে। সুতরাং একদিন আগেই তা জারি করা হয়েছে। তবে সেটা সোমবার প্রকাশ্যে এল। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় তা চাউর হয়নি। সোমবার কাজের দিন হওয়ায় তা প্রকাশ্যে চলে এল। ওই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের সবস্তরের স্থায়ী, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক, চুক্তির মাধ্যমে অন্য সংস্থার যে কর্মীরা রাজ্য সরকারের কাজ করেন, সাম্মানিকের বিনিময়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদেরও এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে বলা হয়েছে। এমনকী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা এবং স্থানীয় সংস্থার কর্মচারীদেরও যোগ দিবস পালন করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জে নরেন্দ্র মোদী ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসাবে ঘোষণা করেন। সেটা ব্যাপক সাড়া ফেলে বিশ্বে। তার পর থেকে প্রত্যেক বছর যোগদিবস শুরু হয়ে যায়। আর প্রধানমন্ত্রী যোগভ্যাস করার জন্য বার্তা দেন যুবসমাজকে। তারপর থেকে সব রাজ্যেই ২১ জুন যোগ দিবস ঘটা করে পালন করা হয়। এই বছর কলকাতায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এই বছরই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। তারপরই প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দপ্তরে গিয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী।