রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে নানা অভিযোগ ছিলই। এবার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সবকিছু স্বচ্ছতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আর তাই এবার মাদ্রাসাগুলি নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত, অস্বীকৃত, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অথবা সম্পূর্ণ বেসরকারি স্তরে পরিচালিত মাদ্রাসার সমস্ত তথ্য জানাতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিল নবান্ন। এমনকী আগামী ৫ জুলাই, ২০২৬ সালের মধ্যে এই সমীক্ষা প্রক্রিয়া শেষ করে নবান্নে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় দ্রুত যে কাজ করতে হবে সেটা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন সব জেলার জেলাশাসকরা। ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা সমস্ত জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাতে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রত্যেকটি ব্লকে এবং পুরসভা এলাকায় এই সমীক্ষা চালাতে হবে। যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন এই সমীক্ষার বাইরে না থাকে। জেলাশাসকদের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজ নিজ এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় কর্মরত সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন করতে হবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রশাসনিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে সব স্বচ্ছ থাকে। কোথাও কোনও দুর্নীতি বা অনিয়ম যাতে না হয় তাই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। তার উপর আগে কোনও দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেটাও সামনে চলে আসবে। তবে এই সমীক্ষার মাধ্যমে রাজ্য সরকার জেলাভিত্তিক খাঁটি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মাদ্রাসা শিক্ষার রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে। এই সামগ্রিক ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি হয়ে গেলে রাজ্য সরকারের পক্ষে মাদ্রাসা স্তরে ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হবে।
তাছাড়া যে তথ্যগুলি জেলাশাসকদের জানতে হবে সেগুলি হল-মাদ্রাসা কোন স্তরের, কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তার আইনি ভিতি কী, মাদ্রাসা ভবন, ক্লাসরুম, পানীয় জল, শৌচাগার-সহ সামগ্রিক পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা কেমন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কেমন পড়াশোনা হচ্ছে, কতজন ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়ছে-সহ নানা বিষয়। এই সমীক্ষা সরকারকে কাজ করতে সাহায্য করবে। এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক উদ্দেশে এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য করা হচ্ছে।