রাজ্যের সরকারি দপ্তরে কর্ম সংস্কৃতি ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ জুন থেকে নবান্নে কর্মরত সমস্ত আধিকারিক ও কর্মচারীর জন্য ‘ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক’ হাজিরা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে। শুধু অফিসে প্রবেশের সময় নয়, অফিস ছাড়ার সময়েও উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে এই নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দপ্তরের প্রধানদের বাদ দিয়ে নবান্নে কর্মরত বাকি সব আধিকারিক ও কর্মচারীকে ওই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থিতি ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজিরা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দপ্তরভিত্তিক উপস্থিতির নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নতুন নিয়মে কী কী বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অফিসে পৌঁছনো বাধ্যতামূলক। যদি কেউ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে উপস্থিতি নথিভুক্ত করে তাহলে তা ‘দেরিতে হাজিরা’ হিসেবে গণ্য করা হবে। আবার সকাল ১১টার পরে হাজিরা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ওই দিনের জন্য অনুপস্থিত বলে গণ্য করা হবে।
তবে শুধু অফিসে আসার ক্ষেত্রেই নয়, অফিস ছাড়ার সময়েও কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলে তা ‘আগে প্রস্থান’ হিসেবে ধরা হবে। কোনও কর্মী যদি একই দিনে দেরিতে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যান, তাহলে তাঁকে ওই দিনের জন্য অনুপস্থিত বলে গণ্য করা হবে। সেই সঙ্গে তাঁর একটি প্রাপ্ত ছুটিও কেটে নেওয়া হবে।
এখানেই শেষ নয়। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অফিস ছাড়ার সময়ে যদি কোনও কর্মী উপস্থিতি নথিভুক্ত না করেন, তাহলে তাঁকেও অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ অফিসে ঢোকা ও বেরোনো উভয় তথ্যই রেকর্ড করা বাধ্যতামূলক। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নিয়মিত দেরিতে আসা বা আগে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রুখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদি কোনও ব্যক্তি এক মাসে তিনদিন দেরিতে আসেন এবং তিনদিন নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যান, তাহলে তাঁর একটি প্রাপ্ত ছুটি কেটে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে কর্মীদের জন্য আগে থেকে চালু থাকা কিছু বিশেষ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা বাসস্থানের সমস্যা বা অন্য কোনও কারণে সদর দপ্তরের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারেন না। তাঁদের জন্য পূর্ববর্তী বিধি অনুযায়ী যে বিশেষ ছাড় ছিল তা আপাতত বহাল থাকবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে নবান্নে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। পরে ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও এই পদ্ধতি কার্যকর করা হবে। আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহল মনে করেছে, ডিজিটাল হাজিরার মাধ্যমে সরকারি কাজে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে।