রাজ্যের সমস্ত জেলা, ব্লক এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সারাবছর সাড়ম্বরে উদযাপিত হতে চলেছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী। নবান্নের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, সরকারি স্পনসরড স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে বিশেষ অধিবেশন পালন করতে হবে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনাসভা, রচনা লিখন, বিতর্ক সভা, কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। যুক্তি, তর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে শ্যামাপ্রসাদের অবদান সম্পর্কে পড়ুয়াদের জানাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নবান্ন সূত্রে খবর, গত ৩ জুন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার উপর ভিত্তি করেই ২৩ জুন তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপর বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করতে হবে। স্কুল ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা লিখন, বিতর্ক সভা, কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরাজি দুই ভাষাতেই শ্যামাপ্রসাদের জীবনী ও তাঁর কর্মজীবন নিয়ে শিক্ষামূলক বুকলেট ও পঠনসামগ্রী প্রকাশ করতে হবে।
অন্যদিকে আরও উল্লেখ রয়েছে, রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রত্যেক বছর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে বার্ষিক মেমোরিয়াল লেকচারের ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল স্তর থেকেই শিক্ষা-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা সম্পর্কে পড়ুয়াদের সবিস্তারে জানানো হবে। মূলত চারটি কর্মসূচি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এক, রাজ্যের সমস্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপর বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করতে হবে. দুই, সমস্ত স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে রচনা লিখন, বিতর্ক সভা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন বাধ্যতামূলক. তিন, বাংলা এবং ইংরেজি, উভয় ভাষাতেই তাঁর জীবনী এবং কর্মজীবন সংক্রান্ত শিক্ষামূলক বুকলেট প্রকাশ করতে হবে। চার, রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রত্যেক বছর ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে বার্ষিক মেমোরিয়াল লেকচার বা স্মারক বক্তৃতার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।
তাছাড়া এই বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে ডিস্ট্রিক্ট লেভেল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ১২৫ সেলিব্রেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবান্নের নির্দেশিকায় ওই কমিটির গঠন কেমন হবে সেটাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রত্যেক জেলার জেলাশাসক। এই কমিটিতে থাকবেন জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, পুরসভার কমিশনার বা এক্সিকিউটিভ অফিসার, মহকুমাশাসক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক। জেলাশাসক দ্বারা মনোনীত এলাকার সাংসদ ও বিধায়করাও কমিটিতে থাকবেন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও অবদানের উপর একটি স্থায়ী গ্যালারি এবং প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর সমস্ত নথিপত্র, বক্তৃতা এবং চিঠিপত্রগুলিকে ডিজিটাইজড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।