শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে মুকুটমণি অধিকারীর বৈঠক, জল্পনা তুঙ্গে

এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর জেরে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারবেন না? এই পরিস্থিতিতে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে একাধিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবু এখনও সেই দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।

এই আবহেই উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে একটি আকস্মিক সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বনগাঁর বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেন রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। সূত্রের খবর, দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ একান্তে আলোচনা হয়। সামনে যখন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন, তখন এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এটি কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিত?

তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুকুটমণি অধিকারী দাবি করেন, এটি নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাঁর কথায়, বহু বছর ধরেই তাঁর পরিবার ঠাকুরবাড়িতে আসছে। তাই এই সফরের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। দলবদলের জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের আগে নানা ধরনের খবর ছড়ায়, কিন্তু তার সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকে না। অন্যদিকে, শান্তনু ঠাকুরও একই কথা বলেন। তাঁর দাবি, মুকুটমণি অধিকারী গাড়ি পুজো দিতে ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন এবং সেই সূত্রেই দেখা হয়। দলবদল নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই জানান তিনি।


তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের মুখে এমন বৈঠককে একেবারে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রানাঘাট দক্ষিণ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন মুকুটমনি অধিকারী। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে আবারও জয়ী হন। তাই সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।