রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে একটা ট্রেন্ড সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। সেটি হল- তৃণমূল নেতা, সাংসদ, কাউন্সিলর এবং প্রাক্তন মন্ত্রীদের দেখলেই ডিম ছুঁড়ে মারা। এই ট্রেন্ডকে বলা হচ্ছে ডিম থেরাপি। এমন পরিস্থিতি হতে পারে বলে তৃণমূল কংগ্রেসের একঝাঁক সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও এড়ানো গেল না ডিম থেরাপি। এবার সাংসদ শতাব্দী রায়কে লক্ষ্য করেও ছোঁড়া হলো দেদার ডিম। এই ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়িতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, তিনি গাড়ি থেকে আর নামতেই পারেননি। গাড়ির ভিতরে থাকতে হয়। ফলে সাংসদের শাড়ি স্পর্শ করেনি ডিম। সেসব গাড়িতেই আটকে থাকে। সিউড়িতে তাঁর গাড়ি ধাওয়া করে বেশ কয়েকজন যুবক এই ডিম থেরাপি দেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
এদিকে নির্ধারিত সূচি মেনেই বীরভূম জেলা প্রশাসন ভবনে চলে দিশা বৈঠক। ওই বৈঠকে চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। তবে ওই বৈঠকের শুরু থেকেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। জেলা প্রশাসন ভবনের বাইরে সাধারণ মানুষ জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের প্রত্যেকের হাতেই কাঁচা ডিম ছিল। সেটা বুঝতে পেরেই পুলিশে খবর দেন বলে শতাব্দী। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ভিড় সরিয়ে দেয় এবং প্রশাসন ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে। কিন্তু তাতেও ডিম থেরাপি ঠেকানো যায়নি। ওই বৈঠক শেষ করে শতাব্দী রায়ের গাড়ি দ্রুত প্রশাসন ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তখন জেলা তৃণমূল কার্যালয়ের কাছে একটি স্কুটারে থাকা কয়েকজন যুবক সাংসদের গাড়ির ধাওয়া করে কাঁচা ডিম ছোঁড়ে। দেদার ডিম ফেটে গাড়ি হলুদ হয়ে যায়। তার জেরে গাড়ি থেকে আর নামতে পারেননি সাংসদ।
অন্যদিকে গাড়িতে ডিম পড়ছে বুঝতে পেরে চালককে দ্রুত চালানোর নির্দেশ দেন শতাব্দী। তারপরও গাড়ির সামনে, পিছনে এবং জানালার ধারে ডিম পড়তে থাকে। তাতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েন বীরভূমের সাংসদ। স্থানীয় বাসিন্দা যাঁদের পুলিশ সরিয়ে দিয়েছিল তাঁরা জানান, একবার পুলিশ বাঁচাল। আবার এলে কে বাঁচাবে দেখব? ডিম মেরে স্নান করিয়ে দেওয়া হবে। মানুষের সঙ্গে উনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তাই ডিম ওনাকে খেতেই হবে। এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির কোনও বিধায়ককে দেখা যায়নি।
তাছাড়া ডিম থেরাপির ভয়ে বিধায়করা সেখানে যাননি বলেই জানা যাচ্ছে। এই বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় শতাব্দী রায়কে। নিরাপদ জায়গায় এসে সাংসদ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল রাজনৈতিক কাজে দিল্লিতে আছেন। অন্য বিধায়করা কেন আসেননি সেটা তাঁরাই বলতে পারবেন। আমি ওঁদের পরিবারের সদস্যদের পিএ নাকি?’ তবে এদিনের বৈঠক শেষে শতাব্দী রায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার ঘটনাই এখন বীরভূমে জোর চর্চিত হচ্ছে।