রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরে ৯ হাজারের বেশি নিয়োগ

রাজ্যে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক নিয়োগের সুযোগ করে দিল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যদপ্তর। ফার্মাসিস্ট, জিএনএম নার্সিং, স্টাফ নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এবং জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার (জিডিএমও) সহ বিভিন্ন পদে প্রায় ৯ হাজার শূন্যপদে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি পদেই আবেদনকারীর সংখ্যা ব্যাপক, যার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জেনারেল নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি বা জিএনএম নার্সিং পদের জন্য মোট ৩,৩৬৩টি শূন্যপদ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এই পদের জন্য ৪০ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে। কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশিত হয়েছে। এই পদে নতুন নিয়োগ হলে রাজ্যের স্বাস্থ্যখাতে নার্সিং সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে একাধিক বিভাগের জন্য সহকারী অধ্যাপক নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে। ৪৭টি ভিন্ন বিভাগে মোট ৫২২টি শূন্যপদে ৪১৬ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি জেলার জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার পদেও চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে। জিডিএমও পদে ১,২২৭টি শূন্যপদের জন্য প্রায় আটগুণ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল মোট ৮,০৪৯ জন। এর মধ্যে ১,১৩২ জনের প্যানেল ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। ফার্মাসিস্টদের প্যানেলও খুব শিগগিরি প্রকাশ পাবে।


মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদেও ব্যাপক সাড়া দেখা গিয়েছে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে এই পদে ৮০৭টি শূন্যপদের জন্য ৪,২৯৭ জন আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে ৪,০২০ জনকে কম্পিউটার টেস্টের জন্য বাছাই করা হয়। এরপর ১,৫৪৭ জনকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নতুন নিয়োগ করা হবে। এছাড়া ২,৬১১ জন স্টাফ নার্সও ইতিমধ্যেই নতুন চাকরি পেয়েছেন।

এই বৃহৎ নিয়োগ অভিযানের ফলে শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধিই হবে না, বরং বহু চাকরিপ্রার্থীর জন্যও নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে এমন ব্যাপক নিয়োগকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পদক্ষেপ রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার কার্যকারিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আশার আলো হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

রাজ্যে স্বাস্থ্যখাতে এই নিয়োগ অভিযান জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি কোটি কোটি মানুষকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা ভোটের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ।