নতুন অর্থবর্ষ ২০২৬–২৭ শুরুর আগেই প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজকর্ম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ‘ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট’-এর ভিত্তিতে আগামী অর্থবর্ষের প্রথম চার মাসের জন্য বিভিন্ন খাতে নির্দিষ্ট হারে তহবিল ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রশাসনিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে বেতন, মজুরি, হাসপাতালের খাদ্য ও ওষুধ, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ভাড়া ও কর-সহ জরুরি খাতে মোট বার্ষিক বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ খরচ করা যাবে। একই সীমা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের স্কলারশিপ ও স্টাইপেন্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অন্যদিকে, বেতন-বহির্ভূত খাতে ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত তহবিল ছাড়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংক্রান্ত খাত এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।
Advertisement
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ‘জয় বাংলা’ ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত তহবিল ছাড়ের অনুমোদন মিলেছে। তবে মাসভিত্তিক ব্যয় বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরআইডিএফ-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির জন্য ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ছাড় করা যাবে। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও আংশিক ছাড় দেওয়া হয়েছে—রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্পে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে, তবে কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পে অর্থ দফতরের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।
Advertisement
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ ইতিমধ্যেই ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী বাজেটে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির ক্ষেত্রে ১২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০০ টাকা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই বর্ধিত ভাতা কার্যকর হয়েছে, ফলে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বেশি অর্থ পৌঁছচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থ দপ্তর আরও জানিয়েছে, এই তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আর্থিক বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক এবং প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মেমো নম্বর উল্লেখ করতে হবে। ২৬-এর ভোট অন অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, অর্থবর্ষের শুরুতেই এই আংশিক তহবিল ছাড় সরকারি পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে সহায়ক হবে।
Advertisement



