পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার প্রথম বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, গত বছর এই দিনে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলায় নিহত নিরীহ মানুষদের তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ কখনও ভোলা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁদের এই কঠিন সময়ের যন্ত্রণা দেশবাসী অনুভব করছে’।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরেরল পহেলগামে বৈসরণ উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘একটি জাতি হিসেবে, আমরা শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। ভারত কখনওই কোনও ধরনের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করবে না। সন্ত্রাসবাদীদের জঘন্য পরিকল্পনা কখনওই সফল হবে না।’ সন্ত্রাসবাদীদের উদ্দেশ্য কোনওদিন সফল হবে না—এ কথাও তিনি স্পষ্টভাবে জানান।
এই ঘটনার পর দীর্ঘদিন নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ ছিল ওই অঞ্চলের একাধিক পর্যটনকেন্দ্র। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় পর্যটন ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার বৈসরণ উপত্যকার একটি অংশ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের মোট ৩৯টি পর্যটনস্থল পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে টিউলিপ বাগান-সহ ১২টি পর্যটনকেন্দ্র চালু করা হয়েছিল।
অনন্তনাগ জেলার অন্তর্গত বৈসরণ একটি বিস্তীর্ণ সবুজ তৃণভূমি, যা পহেলগাম শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়েই সেখানে পৌঁছনো যায়। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে এই জায়গা ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ নামেও পরিচিত।
গত বছর ২২ এপ্রিল হামলার পরে উপত্যকার প্রায় ৫০টির বেশি পর্যটনস্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে টিউলিপ বাগান-সহ ১২টি পর্যটনস্থল খুলে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার আরও ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খোলা হল পর্যটকদের জন্য। পহেলগাম থেকে বৈসরণ উপত্যকাগামী হাঁটাপথে বুধবার কিছু পর্যটক গিয়েছিলেন। তাঁদের সুরক্ষার জন্য গোটা এলাকা জুড়ে ছিল কেন্দ্রীয় আধাসেনার নিরাপত্তা বেষ্টনী। চিহ্নিত এলাকার বাইরে পর্যটকদের যাওয়ার উপর ছিল কড়া বিধিনিষেধ।