কেশপুরে পা রাখলেই উঠছে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান, দুর্গাপুজোর আগে কি শিউলি ফুটবে পশ্চিম মেদিনীপুরে?

MLA Shiuli Saha Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পরই বিধায়কদের একটা বড় অংশ ভেঙে বেরিয়ে যায়। তবে তাঁরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছেন। শুধু তাই নয়, এই বিধায়ক দল বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি লিখে এখন প্রধান বিরোধী দলের তকমা নিয়ে বসে আছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিধায়ক দলের মাথা। আর বিধানসভায় তিনিই বিরোধী দলনেতা। তবে এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়েছে। এই বিধায়ক দলের মধ্যে আছেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন তিনি। কিন্তু নিজের বিধানসভা এলাকায় ঢুকতে পারছেন না তিনি। কারণ শিউলি সাহা কেশপুরে পা রাখলেই উঠছে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান। ডিম ছোঁড়ার হুমকিও মিলেছে বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে বিধায়কের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না এলাকার সাধারণ মানুষ। তার জেরে সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত কাজও হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই কলকাতায় এসে নিজেদের কাজ করিয়ে নিয়ে গিয়েছেন বলে খবর। তবে এই পরিস্থিতি কাদের জন্য হচ্ছে? প্রশ্ন উঠছে। কেশপুরে বামফ্রন্টের জমানায় গুলি, বোমা, সন্ত্রাসের যে বাতাবরণ ছিল সেটা স্বাভাবিক হয় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে। এবার রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তারপরও আসনটি তৃণমূলের রয়েছে। সেখানে দল ক্ষমতায় নেই বলে শিউলি সাহা অতীত ইতিহাস ভুলে ঋত শিবিরে গিয়ে আলো করে বসেছেন।

এই বিষয়টি ভালভাবে নেননি তৃণমূল কর্মীরা। তাই তাঁরা শিউলি সাহাকে গো-ব্যাক স্লোগান শুনিয়েছে। এখানে বিজেপির কোনও যোগ নেই। দলের কর্মীদের কাছে আজ ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন শিউলি। তাই প্রশ্ন উঠছে, দুর্গাপুজোর আগে কি কেশপুরে ফুটবে শিউলি? অর্থাৎ কেশপুরে যেতে পারবেন তিনি? তৃণমূল কর্মীদের বক্তব্য, তাঁদের ঘাম, রক্ত, পরিশ্রম দিয়ে শিউলি সাহাকে জেতানো হয়েছিল। আর এখন উনি পাল্টি খাচ্ছেন। এটা মেনে নেওয়া হবে না। তাই এখানে পা রাখলেই তাঁকে গো-ব্যাক স্লোগান শুনতে হবে। কালো পতাকা দেখতে হবে। এমনকী প্রয়োজন পড়লে বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হবে।


এই পরিস্থিতিতে শিউলি সাহা পড়েছেন মহা ফাঁপরে। তিনি অনুরোধ করেছেন কর্মীদের যাতে কেশপুরে ফিরতে পারেন। কিন্তু কেউ তাঁর সেই অনুরোধে কান দেননি। ভোটের পর প্রথমবার দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে একটি কর্মসূচিতে এবং পরে মোহবনীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন শিউলি সাহা। কিন্তু সেখানে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান শুনে কেশপুর ছেড়ে ফিরতে হয় তাঁকে। এই বিষয়ে শিউলি সাহা বলেন, ‘আগেও কেশপুরের মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। কিন্তু আমাদের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বিজেপির নেতাদের কাছে অনুরোধ করেছি। আমাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। গেলেই গো-ব্যাক স্লোগান, ডিম মারার কথা বলছে।’ বিজেপির কথা বললেও আসলে তৃণমূল কর্মীরাই ফিরিয়ে দিয়েছেন শিউলি সাহাকে।