‘কেউ কথা রাখেনি’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার লাইন আউড়ে বিদ্রোহী শিউলি

MLA Seuli Saha Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যেতেই দল ভেঙে খান খান হয়ে যায়। বিধায়কদের একটা বড় অংশ নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে বিরোধী দলের মর্যাদা নিয়ে বিধানসভা আলো করে বসেছেন। যা নিয়ে মামলাও হয়েছে এবং বিতর্কও আছে। এই আবহে একের পর এক বিধায়ক আবার ফিরতে শুরু করেছে মমতার শিবিরে। এবার সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার লাইন আউড়ে বিদ্রোহের পথে হাঁটলেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। তিনিও ঋতব্রত শিবিরে গিয়ে সুরক্ষিত থাকবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটেনি। তাই বিদ্রোহী শিউলি। এবার কি মমতা শিবিরে ফিরবেন? উঠছে প্রশ্ন।

এদিকে এবার কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী তকমা পাওয়া সেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে এবং বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধেও। তাই শনিবার সুর চড়িয়ে বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, ‘কেউ কথা রাখেনি।’ আসলে ওনাকে কেউ বা কারা কিছু কথা দিয়েছিলেন সেটা এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট। আর সেই কথা দিয়েই তাঁকে বিদ্রোহী শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন সেই কথা রাখা হয়নি বলেই শিউলির অভিযোগ। যার জেরে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন তিনি। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। তারপর থেকেই রাজ্য-রাজনীতিতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে একদিন আগেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আল্টিমেট নেত্রী বলেছেন। যদিও এখনও কালীঘাটে ফেরেননি। রাজনীতিও ছাড়েননি। তাঁরও কিন্তু মূল অভিযোগ ছিল আক্রমণের বিরুদ্ধে। পুলিশ-প্রশাসন তাঁকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না বলেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে যেতে পারেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অনুযোগ করেছেন মদন। এবার সেই একই অভিযোগ করলেন শিউলি। শিউলিকে দেওয়া কোন কথা, কে রাখেননি, সেটা খোলসা না করলেও বিধায়ক প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তা নিয়ে। নিরাপত্তার অভাবে নাকি নিজের কেন্দ্র কেশপুরে যেতে পারছেন না শিউলি সাহা। পুলিশ-প্রশাসনের দরজায় ঘুরেও নাকি কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ বিধায়কের।


তাছাড়া এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকলে ডিম খেতে হবে। পথে লাঞ্ছনার শিকার হতে হবে। কিন্তু শিবির বদল করলে তা হবে না। এমন কথাই কেউ বা কারা দিয়েছিল। যা বাস্তবায়িত হয়নি বলেই অভিযোগ। তাই মদনের সুরে সুর মিলিয়েই শিউলি সাহার দাবি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। তাঁর প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রণাম জানাচ্ছি। সব বাউন্ডারি পার করে বিজেপি নেতাদেরও বলেছি। তারপরও যেতে পারিনি নিজের এলাকায়।’ এখন দেখার শিউলি পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেন।