ঋত-শিবিরের সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন সুজাপুরের বিধায়ক, মমতার কাছে ফিরছেন?

MLA Sabina Yasmin Photo-SNS

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে ক্রমাগত পাল্টে যাচ্ছে রাজ্য-রাজনীতির প্রেক্ষাপট। শুকু হয়েছিল কাশেম সিদ্দিকির ফেরত আসা দিয়ে। তারপর রথীন ঘোষ ঋতব্রত শিবির ত্যাগ করে কালীঘাটের পথে পা বাড়িয়েছেন। এবার ঋতব্রত শিবিরের সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন সুজাপুরের বিধায়ক। একমাস আগে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। এবার সেসব অতীত করে দিতে চাইলেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি সাবিনা ইয়াসমিন। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্নায়ুর চাপ বাড়ল ঋতব্রত শিবিরের। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের সিদ্ধান্তেই বিরোধী দলনেতা হয়েছেন। অথচ সময় যত গড়াচ্ছে তত তাঁর ঘরে ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩৫ জন বিধায়কের একটি দল পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন বলে সূত্রের খবর।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে একমাস আগে যোগ দেওয়ার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। ডেমোক্র্যাটিক মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদে ইস্তফা দিলেন তিনি। চতুর্থীর সকালে ঋতব্রত শিবিরের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে চিঠি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। বিধায়কদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি বলে সূত্রের খবর। সুতরাং সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বিদ্রোহী শিবিরের।

অন্যদিকে এই ঘটনা সামনে আসতেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তাহলে কি কালীঘাটের পথে সাবিনা ইয়াসমিন? এই বিষয়ে অবশ্য শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদ ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন সাবিনা। তবে দলের হয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। সুতরাং দু’নৌকায় পা দিয়ে চলবেন সাবিনা বলে মনে করছেন অনেকে। তবে সাবিনার পরবর্তী পদক্ষেপ দেখলে তবেই বলা যাবে কোন পথে হাঁটছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে। যে কোনও দিন তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ হতে পারে। এই আবহে জল মাপার জন্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখলেন সাবিনা বলে মনে করা হচ্ছে।


তাছাড়া ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবিনা ইয়াসমিনও। ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যোগ দেন তিনি। ওই শিবিরই তাঁকে মহিলা সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে পদত্যাগ করলেন তিনি। পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের পর গোষ্ঠীত্যাগের সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। যদিও সে বিষয়ে নিজে মুখে কিছু বলেননি সাবিনা ইয়াসমিন। ঋতব্রত-সহ তৃণমূলের ১০ বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজের যে তালিকা তাতে নাম রয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনের। এবার পরিস্থিতি ঘোরাল বলেই কি দূরত্ব বাড়ালেন? উঠছে প্রশ্ন।