এবার রাস্তা দখলের হুঙ্কার দিলেন নওদার বিধায়ক, প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ হুমায়ুনের

MLA Humayun Kabir Photo-SNS

রাজনীতিবিদ হিসাবে বারবার তিনি বিতর্কিত চরিত্র। কখনও হুমকি, কখনও কুকথা এবং হুঙ্কার তাঁর লেগেই থাকে। বাবরি মসজিদ নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে তিনি বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। হ্যাঁ, তিনি নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর আসন থেকে নিজের ছেলেকে জেতাতে পারেননি। তাই দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন। বাবরি মসজিদ ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেওয়ার হুঙ্কার দিলেন হুমায়ুন। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। রাজ্য প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন।

বেশ কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে কুকথা বলে বিতর্ক তৈরি করেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা জবাব দিতেই চেপে যান তিনি। ছেলের হেরে যাওয়ার পর দমে গিয়েছিল হুমায়ুন। কিন্তু আবার তিনি তেড়েফুঁড়ে উঠে প্রশাসনের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন, ‘প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।’ তিনি যে জাতীয় সড়ক অবরোধ করবেন সেটা আটকে দেখানোর চ্যানেঞ্জ ছুঁড়ে রাজনীতিতে আবার প্রাসঙ্গিক হতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এবার বেলডাঙার বরি মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়-ব্যয়ের হিসেবনিকেশ বিষয়ক সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কড়া ভাষায় হুমকি দিলেন হুমায়ুন কবীর। পালটা কোনও অশান্তি রুখতে প্রশাসনও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

তাঁর দল ছেড়েও অনেকে চলে গিয়েছেন। এখন নিজের পার্টির একমাত্র বিধায়ক তিনিই। এই আবহে হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কার, ‘বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেব। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক। একমাস পাঁচ দিন পরে আমি আবার ঘোষণা করলাম, মুর্শিদাবাদের প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে রুখে নেবেন। ওই দিন আবার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, রেজিনগর থেকে বহরমপুর ৩০ কিলোমিটার আমার কবজায় থাকবে। কৃষ্ণনগর থেকে বহরমপুর, ডোমকল, জলঙ্গি থেকে বহরমপুর, সাঁইথিয়া থেকে কান্দি হয়ে বহরমপুর, ওদিকে বর্ধমান থেকে যেটা নবদ্বীপ ব্রিজ হয়ে সমস্ত রাস্তা চার-পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুসলিম ভাইরা, এই বাবরি মসজিদের আবেগে তাঁরা সাড়া দিয়ে রাস্তায় ছিল। পুলিশ তখন কিচ্ছু করতে পারেনি। পুলিশ জানে, আমরা কেউ আইনশৃঙ্খলা ভাঙিনি। আগামী দিনেও ভাঙব না। কিন্তু আমার আর্জি, আপনারা ২০২৬ সালের ৬ ডিসেম্বর সবাই আমার সঙ্গে থাকবেন।’


এই হুঙ্কার আসলে নিজেকে রাজনীতিতে ভাসিয়ে রাখার জন্যই বলে অনেকে মনে করছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই বলেছেন, রাজ্যে অরাজকতা তৈরি করা যাবে না। কেউ এমন করলে পুলিশ তা কড়া হাতে মোকাবিলা করবে। সেখানে হুমায়ুন কবীরের এই হুঙ্কার নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ওইদিনই তাঁর নিজের এলাকা বেলডাঙায় মসজিদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেছিলেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থাও ছিল। সেই পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করেই হুমায়ুন আবার হুঁশিয়ারি দিলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক। আগামী ৬ ডিসেম্বর মসজিদের উদ্বোধন হবে। ওইদিন মুসলিম সমাজের সকলকে নিয়ে রাস্তা অবরোধ করত নামব।’