জুয়ার ঠেকে গোপনে হানা পুলিশের, বোমা মারল দুষ্কৃতীরা, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এএসআই

Bomb Attack On Police Photo-SNS

বসেছিল জুয়ার আসর। সেখানে গোপনে হানা দেয় পুলিশ। আর তখনই আক্রান্ত হল পুলিশ। রবিবার বেশি রাতে মুর্শিদাবাদের সালার থানার অন্তর্গত খাড়েরা গ্রামে বোমা মারা হল পুলিশকে। আর এই বোমাবাজির ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়েছেন সালার থানার এক এএসআই-সহ একাধিক পুলিশকর্মী। পুলিশ কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা যুক্ত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খাঁড়েরা গ্রামে সালার থানার পুলিশ হানা দিতেই শুরু হয় বোমা নিক্ষেপ। পুলিশকে পরপর বোমা ছুঁড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া ওই বোমার আঘাতে সালার থানার এএসআই সাদেক আলি এখন বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বলে খবর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, কিছুদিন ধরেই সালার থানার খাড়েরা মোড়ের কাছে কয়েকজন প্রত্যেকদিন রাতে জুয়ার আসর বসাচ্ছিল। তার সঙ্গে চলছিল দেদার মদ্যপান। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার বেশি রাতে সালার থানার পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশ জুয়ার ঠেকগুলিতে হানা দিতেই হঠাৎ কিছু দুষ্কৃতী পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা মারতে শুরু করে। বোমার আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছেন সালার থানার এএসআই সাদেক আলি। একাধিক পুলিশকর্মীও জখম হয়েছেন। বোমাবাজির উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাতেই তখন খাঁড়েরা গ্রামে পৌঁছন জেলা পুলিশের কর্তারা। শুরু হয় অভিযুক্তদের খোঁজ।

তবে তল্লাশি চালিয়ে বোঝা যায়, বোমাবাজির ঘটনার পর গা-ঢাকা দিয়েছে। তবে পুলিশ পাঁচজনকে সোমবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই হামলার ঘটনায় আর কারা জড়িত সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এএসআই সাদেক আলির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। সোমবার সকাল থেকে খাঁড়েরা গ্রামে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে রয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখছে সালার থানার পুলিশ। এলাকায় কোনও সিসিটিভি ছিল কিনা সেটা দেখা হচ্ছে।


তাছাড়া যে এলাকায় পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে তার থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে দুদিন আগে চারজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার পর থেকে এই এলাকার সবরকম অসামাজিক কাজ বন্ধ করতে তৎপর হয়ে ওঠে সালার থানার পুলিশ। যার জন্যই হানা দেওয়া হয়েছিল জুয়ার ঠেকে। এই বিষয়ে সালার থানার অন্তর্গত ভরতপুর বিধানসভার ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জীব ঘোষ বলেন, ‘পুলিশের উপর বোমা মারার ঘটনা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি দ্রুত সমস্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’