তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি লক্ষ্য করে চলল গুলি, আতঙ্কের বাতাবরণ জলপাইগুড়িতে

Jalpaiguri Shootout Photo-SNS

জলপাইগুড়িতে কাউন্সিলরের বাড়ি লক্ষ্য করে চলল ‘গুলি’। শনিবার ভোরে তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে ঢুকে ‘হুমকি’ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চলার অভিযোগ সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। জলপাইগুড়ি পুর বোর্ড গঠন নিয়ে গোলমাল চলছিল। তার মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান পদের দাবিদার তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। নব্য তৃণমূলে যাওয়ায় পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসা হয়েছিল। অনাস্থায় চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়।

এই পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়িতে বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদের দাবিদারের বাড়িতে ‘হামলা’ হয়ে গেল। এই ঘটনা নিয়ে শনিবার এলাকায় চাপা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলরের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলির অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন আতঙ্কে। শুধু তাই নয়, এই গুলির শব্দে শনিবার ভোরে বহু বাসিন্দার ঘুম ভেঙে যায়। আর তার পর থেকেই আতঙ্কিত বাসিন্দারা। অভিযোগ, শনিবার জলপাইগুড়ি পুরসভায় বোর্ড গঠনের সভা নির্দিষ্ট ছিল। ঠিক তার আগেই, মাঝরাতে এবং শনিবার ভোররাতে একদল দুষ্কৃতী তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে চড়াও হয়। দুষ্কৃতীরা তাঁর স্ত্রীর সামনেই শূন্যে গুলি চালিয়ে দেয়। পরিবারের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়।

সূর্যের আলো ফোটার আগেই এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জলপাইগুড়ি। ভোর প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ জলপাইগুড়ির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে কিছু দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের দাবি, শনিবারের বোর্ড গঠনের সভায় যাতে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর অনুগামীরা উপস্থিত না থাকেন তার জন্যই ভয় দেখাতে এই হামলা এবং গুলি চালানো হয়েছে। তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর অনুগামী আরও অন্তত ৩-৪ জন পুরপ্রতিনিধির বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হুমকি দিয়েছে।


তাছাড়া স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন ভোরবেলা কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে কাউন্সিলরের বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। বাড়ির একাধিক জানালার কাঁচে ঢিল মারে। কাঁচ ভেঙে যাওয়ার পর গুলি চালানো হয়। কাউন্সিলরের দাবি, ‘বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। নতুন করে পুরসভার বোর্ড গঠনের চেষ্টায় বাধা দিতেই এই কাজ করা হয়েছে। তাতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় জলপাইগুড়ি কোতয়ালি থানার পুলিশ।’ ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।