বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি নাবালিকা। আর নাবালিকা নিখোঁজ নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়ে যায় গোটা পরিবার। আর সেই নাবালিকার বিবস্ত্র দেহ মিলল জঙ্গল থেকে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সন্দেহ হয়, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই তুমুল আলোড়়ন পড়ে যায় রায়গঞ্জ জুড়ে। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় নাবালিকা। আর বৃহস্পতিবার রাতে রায়গঞ্জের কুলিকের জঙ্গলে মিলল নাবালিকার বিবস্ত্র দেহ। মাঝরাতেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুমান, ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাট করতেই খুন করা হয়েছে নাবালিকাকে। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তদন্ত করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, একটি কাজ নিয়ে নাবালিকা বাড়ির বাইরে গিয়েছিল। কিন্তু ফিরে আসতে রাত হয়ে যায়। অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই জঙ্গলে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় নাবালিকাকে। ওই জঙ্গলে নানা অসামাজিক কাজ চলে। কয়েকজন যুবককে এখানে প্রায়ই দেখা যায় নেশাভান করতে। তাদের মধ্যে থেকেই এই কুকর্ম ঘটানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটা ধর্ষণ নাকি গণধর্ষণ সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। এই জঙ্গলের পাশ দিয়ে আসার সময়ই স্থানীয় এক বাসিন্দা দুর্গন্ধ পান। তাই জঙ্গলের দিকে তাকাতেই তাঁর আত্মারাম খাঁচা হয়ে যায়। কারণ সেখানে তিনি নাবালিকার বিবস্ত্র দেহ দেখতে পান।
উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের বাসিন্দা ওই নাবালিকা। মঙ্গলবার সাইকেল নিয়ে কাজে বেরিয়েছিল। মৃত নাবালিকার বাবার দাবি, এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীর বাড়ি থেকে জামা আনতে গিয়েছিল। কিন্তু রাত হলেও সে আর ফেরেনি। স্বাভাবিকভাবেই রাত হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা নানা জায়গায় তার খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু কোথাও কিশোরীর সন্ধান মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে বিপদ হতে পারে বুঝে থানার দ্বারস্থও হন তাঁরা। বৃহস্পতিবার রাতে কুলিক জঙ্গলের পাশ থেকে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ পান কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তখন সেদিকে যেতেই দেখতে পান কিশোরীর বিবস্ত্র দেহ। তাঁরাই সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন থানায়। পুলিশ এসে রাতেই রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
তাছাড়া পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। দফায় দফায় এই ঘটনা নিয়ে বৈঠক হয়। কুলিক জঙ্গল-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। নাবালিকা ঠিক কোথায় গিয়েছিল এবং ফেরার সময় কী ঘটেছিল সেটাই এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ করে খুন বলে মনে করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না এলে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে মৃত নাবালিকার পরিবার।