প্রত্যেক বছর বর্ষা এলে ডুবে যায় মালদহের মানিকচকের ভুতনি। আর তার জেরে হাহাকার দেখা যায় গ্রামবাসীদের। ঘর-বাড়ি থেকে শুরু করে গৃহপালিত পশু এবং জমানো সম্পদ চলে যায় জলের তলায়। সহায়সম্বলহীন হয়ে হাপিত্যেশ করতে থাকেন তাঁরা। সরকারি সাহায্যে সবটা মেটে না। তারপর আবার নতুন করে সংসার শুরু করতে হয়। সেটা কঠিন পথ বেয়েই। জমি থেকে ফসল সবই হারিয়ে চোখের জল ফেলতে হয় তাঁদের। জল আর হাহাকারের ছবি মিলে একাকার হয়ে যায়। সরকারি ত্রাণ তখন একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে এবার ভুতনি এলাকা পরিদর্শন করলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
প্রকৃতির প্রতিকূলতায় পড়ে যখন মানুষ হাপিত্যেশ করে তখন মুড়ি, চিঁড়ে, গুড়, পোশাক, গামছা, মশারি নিয়ে ছুটতে হয় প্রশাসনের আধিকারিকদের। চলতি বছর বিনতলা ঘাটে ত্রাণ নিতে আসার ভিড়ের একটি ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শনিবার মালদহের মানিকচকের ভুতনি দিয়াড়ার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার-সহ অন্যান্যরা। মালদহের রতুয়ার কাহালা সূর্যাপুর ঘাট থেকে লঞ্চে করে বানভাসী অবস্থা পরিদর্শন করেন তাঁরা। রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলার পশ্চিম রতনপুর এবং বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের রুহিমারি-সহ একাধিক প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রীরা।
ভুতনির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন প্লাবিত হয়ে রয়েছে। আর তার জেরে লক্ষাধিক মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছে। যদিও এখন ভুতনির বেশ কয়েকটা অংশে জল সামান্য কমতে শুরু করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বানভাসি মানুষের হাহাকার, কষ্ট নিজেদের চোখে দেখতেই এবং ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক আছে কিনা সেটা যাচাই করতেই মন্ত্রীদের এই সফর। ভুতনির বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের পাঠিয়েছেন সেখানে। আকাশপথে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন তাঁরা। সেই রিপোর্ট হাতে পেয়েই দুর্গতদের সহায়তার জন্য ত্রাণ তহবিলে আরও ৫ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ করেছেন।
তাছাড়া শুধু ত্রাণের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে চান না বহু গ্রামবাসী। নিজেদের সব হারানো পরিস্থিতিতেও সম্মান বজায় রেখে বাঁচতে চান অনেকেই। এমনকী ত্রাণ তো সব সমস্যা মেটাতে পারে না। বেঁচে থাকার রসদ বলা যেতে পারে। এটা অনুভব করতে পেরেছেন পর্যটনমন্ত্রী। তাই জলবন্দি ভুতনি দেখে শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘আমরা বন্যাবিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা, সহযোগিতা করা, দ্রুততার সঙ্গে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছি। এই ধরনের ভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। তবে বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা নিয়ে পরবর্তী সময়ে কার্যকরী পদক্ষেপ করা হবে। আমাদের সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছে।’