রাজ্যের নতুন বাজেটে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল প্রকল্পকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ইসকনের সহযোগিতা নেওয়ার ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, কলকাতা পুরনিগম এলাকার স্কুলগুলিতে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এবারের বাজেটে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিল খাতে মাথাপিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। তবে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে বরাদ্দ আগের মতোই ১০ টাকা ৭১ পয়সা রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল পড়ুয়াদের আরও উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা। এর পাশাপাশি স্কুলগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল, জল পরিশোধন যন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। স্কুলছাত্রীদের সুবিধার জন্য বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি স্কুলে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। এছাড়া, প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পাখা বসানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আবার মিড ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রান্নাকর্মীদের মাসিক সাম্মানিকও ১,০০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রান্নাকর্মীদের তরফে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছিল। এবার সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সরকারের বাজেটে এবিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে ইসকনের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিক্ষামহল ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে স্কুলের খাদ্যতালিকায় ডিম ও অন্যান্য প্রাণিজ প্রোটিন থাকবে কি না। কারণ, বাংলার বহু সরকারি স্কুলে ডিম দীর্ঘদিন ধরে মিড ডে মিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার ফলে ইসকনের সহযোগিতায় পরিচালিত ব্যবস্থায় ডিম থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু নিম্নবিত্ত ও গ্রামীণ পরিবারের শিশুর কাছে স্কুলের মধ্যাহ্নভোজই দিনের সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবার। তাই খাদ্যতালিকায় কোনও পরিবর্তন আনা হলে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শিক্ষা ও পুষ্টি ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ইসকনের ভূমিকা এবং পড়ুয়াদের খাবারের ধরন নিয়ে আগামী দিনে আরও আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।