কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর মেট্রোয় ঐতিহাসিক বদল

১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে একাধিক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে কলকাতা মেট্রো। সময়ের সঙ্গে যেমন বেড়েছে রুটের বিস্তার, তেমনই বদলেছে প্রযুক্তি ও পরিষেবার ধরন। নন-এসি রেক বিদায় নিয়েছে, পাতাল ছেড়ে মেট্রো পৌঁছে গিয়েছে আকাশপথেও। আর এবার উত্তর-দক্ষিণ মেট্রো করিডরে ঘটল আরও এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। প্রায় চার দশক পর বদলে গেল মেট্রোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো— থার্ড রেল।

কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত ব্লু লাইনে পুরনো ইস্পাতের থার্ড রেলের বদলে বসানো হয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল। প্রায় তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে এই কাজ চলেছে। কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত ব্লু লাইনে পুরনো ইস্পাতের থার্ড রেলের বদলে বসানো হয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল। প্রায় তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে এই কাজ চলেছে। অবশেষে সম্পূর্ণ করিডরে কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উত্তর-দক্ষিণ করিডরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও এক ধাপ এগোল।

মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো কাজটি দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথম দফায় মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশন থেকে দমদম পর্যন্ত অংশে রেল বদলের কাজ হয়। দ্বিতীয় দফায় উত্তম কুমার স্টেশনের অন্য প্রান্ত থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ মিটার করে থার্ড রেল বদল করা হয়েছে।


প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। ইস্পাতের রেল জোড়ার ক্ষেত্রে ঝালাইয়ের প্রয়োজন হলেও অ্যালুমিনিয়ামের ক্ষেত্রে বিশেষ সংযোগ পাত ব্যবহার করে রেল জোড়া হয়। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিবহণেও দক্ষতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো এবং জোকা-তারাতলা লাইনে শুরু থেকেই অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে উত্তর-দক্ষিণ করিডর কলকাতা মেট্রোর সবচেয়ে ব্যস্ত রুট হওয়ায় সেখানে এই পরিবর্তন কার্যকর করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে কাজের মাধ্যমে সেই কাজ সফল ভাবে সম্পন্ন করল কলকাতা মেট্রো। ফলে শহরের প্রাচীনতম মেট্রো করিডর এবার আরও আধুনিক রূপ পেল।