৩৭ দিনের মাথায় জামিন পেলেন মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত

৩৭ দিনের মাথায় জামিন পেলেন লিওনেল মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। ১০ হাজার টাকা বন্ডের বিনিময়ে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন তিনি। এর আগে দু’বার তাঁর জামিন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। মামলার কিছুই অগ্রগতি হয়নি বলে আদালতে জানান শতদ্রুর আইনজীবী। শতদ্রুকে কেন হেফাজতে রাখা হচ্ছে তা নিয়ে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী। সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত শতদ্রুর আইনজীবীর সেই আর্জি মঞ্জুর করা হয়।

গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে প্রবল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেদিনই বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেসিকে কলকাতায় আনার প্রধান আয়োজক ছিলেন শতদ্রু দত্ত। ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয় তাঁকে।  গত ২৮ ডিসেম্বর দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর ফের খারিজ হয় জামিনের আবেদন। অবশেষে ৩৭ দিন পর জামিন পেলেন শতদ্রু।

যুবভারতীর ঘটনায় বাকিদের জামিন মিললে শতদ্রুকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা নিয়ে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী। মামলার অগ্রগতি সেভাবে হয়নি তাহলে শতদ্রুকে হেফাজতে রাখার কি প্রয়োজন তা নিয়েও বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। শতদ্রুর আইনজীবীর সওয়াল শোনার পরই বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন। সাক্ষীদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেন সরকারি আইনজীবী।


যুবভারতীর মাঠে মেসিকে দেখতে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন দর্শকেরা। তবে অনুষ্ঠানের পুরো সময়টায় ফুটবল তারকাকে ঘিরে ছিলেন আয়োজক এবং রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা। দর্শকাসন থেকে তাঁকে দেখতে পাননি অনুগামীরা। এর পরে মেসি মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলে ক্রোধে ফেটে পড়েন দর্শকেরা। তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। মাঠে ভাঙচুর চালানো হয়।

যুবভারতীতে মেসির সঙ্গে সব সময় থাকার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন অরূপ বিশ্বাস। মুখ্যমন্ত্রী চিঠি গ্রহণ করে দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেন।

দুটি মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। অশান্তি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২, ৩২৪ (৪)(৫), ৩২৬ (৫), ১৩২, ১২১ (২), ৪৫, ৪৬ এবং নাশকতামূলক কার্যকালাপ ছড়ানোর ও জনগনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। প্রথম মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার হন শতদ্রু।

দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পাশাপাশি শতদ্রুর রিষড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তল্লাশির পরই ব্যাঙ্ক ও নানা লেনদেন সংক্রান্ত হিসাব খতিয়ে দেখেন সিটের আধিকারিকরা। তারপরই শতদ্রুর ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।

আদালতে শতদ্রুর জামিনের বিরোধিতা করেছিল পুলিশ।  প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন বলে জানায় পুলিশ। ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। জামিন পেলে শতদ্রু প্রভাব খাটিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কার কথা জানায় পুলিশ। দুবার জামিন খারিজ হওয়ার পর অবশেষে সোমবার জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত।