টালা ব্রিজ নিয়ে আজ বৈঠক নবান্নে

প্রতিকি ছবি (Photo: iStock)

সপ্তাহের প্রথম দিনেই ভােগান্তি চরমে। স্বাস্থ্যের ভঙ্গুর দশার দরুন রবিবার থেকেই টালা ব্রিজের ওপর দিয়ে ছােট গাড়ি ছাড়া সমস্ত যানচলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। পরিবর্তে যানচলাচলের জন্য একগুচ্ছ বিকল্প রাস্তা বাতলে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার ছুটির দিন মসৃণভাবে কাটলেও সপ্তাহের শুরুতেই কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল উত্তর কলকাতার বেশ কিছু রাস্তা।

এদিন যানযটের দরুন চরম ভােগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। পুজোর সময় টালা ব্রিজে বাস চলাচল বন্ধ থাকলে কিভাবে যানজট এড়ানাে সম্ভব তা নিয়ে রীতিমতাে চিন্তিত প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে নবান্নতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়ােজিত করা হয়েছে। এই বৈঠকেই ঠিক হবে সমস্যার সমাধানের ‘রুটম্যাপ’।

টালা ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর অবিলম্বে এই ব্রিজ সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এরপর সােমবার ব্রিজের ওপর বড় গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। পুজোর মুখে এই ব্রিজ বন্ধ হওয়ার প্রভাব পড়বে এই আশঙ্কা ছিলই। কিন্তু সােমবার পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি হয়। বিটি রােডের ওপর দিয়ে যাওয়া ৫০’টি বাসের রুট বদলে দমদম রােড অভিমুখে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।


এর ফলে সমস্যা আরও বাড়ে। একে সংশ্লিষ্ট রুটের নিজস্ব বাস, অটো, ট্যাক্সি সঙ্গে বাড়তি বাসের চাপ, সব মিলিয়ে প্রবল যানজটের সৃষ্টি হয়। পুজোর জন্য বসা রাস্তার ধারে অবস্থিত অস্থায়ী দোকানগুলিও কার্যত অস্বস্তি বাড়ায়। সপ্তাহের শুরুতে অফিস টাইমে চূড়ান্ত ভােগান্তির মুখে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।

এক যাত্রীর কথায়, যশাের রােড থেকে অন্যান্য দিন অফিস যেতে সময় লাগে ১ ঘন্টা। কিন্তু সােমবার শুধুমাত্র বেলগাছিয়া পৌঁছাতেই ৪০ মিনিট সময় লেগেছে বাসে। কিছুটা পায়ে হেঁটে গিয়েই তিনি মেট্রোতে টিকিট কাটতে যান। কিন্তু টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন থাকায় সেখানেও ভােগান্তির মুখে পড়তে হয়, জানান ওই ব্যাক্তি।

এক ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু একদিনের জন্য নয়, টালা ব্রিজ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প রাস্তাগুলি ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে বাসের সংখ্যা কমানাে একটি বিকল্প পদক্ষেপ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মী। যদিও বাস কমালে যাত্রীদের ভােগান্তি বাড়বে তা কার্যত স্বীকার করে নেন তিনি।

এদিকে পুজোর মুখে টালা ব্রিজ অর্ধ বিকল হয়ে যাওয়ায় তৈরি হওয়া যানজট সমস্যার সমাধান কি হতে পারে তা নিয়ে চিন্তিত প্রশাসনও। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে নবান্নতে। বৈঠকের পরই এই বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।