উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী, দমদম উত্তরে দীপ্সিতা, বামেদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় প্রাধান্য পেল তরুণ মুখ

রবিবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সোমবারই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে ১৯২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় রয়েছে ২৮ জন মহিলা প্রার্থীর নাম। বিমান বসু জানিয়েছেন, শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা ভালোই হয়েছে।
বামেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দিপ্সীতা ধর, কলতান দাশগুপ্ত-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। অন্যদিকে ভোটে লড়ছেন না তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ। তবে প্রার্থী তালিকায় তরুণ মুখের আধিক্য বেশি দেখা গিয়েছে। রয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন মুখও। প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় নেই মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, সৃজন ভট্টাচার্যের নাম।
বামেদের প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে সিপিআই(এম) প্রার্থী হচ্ছেন মীনাক্ষী মুখার্জি, পানিহাটি কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত, যাদবপুর কেন্দ্রে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, খড়গ্রামে ধ্রুবজ্যোতি সাহা, কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রে প্রণয় কার্য্যী, ইংরেজবাজারে অম্বর মিত্র, মানিকচকে দেবজ্যোতি সিনহা, কালীগঞ্জের প্রার্থী তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিন, নোয়াপাড়া থেকে প্রার্থী হচ্ছেন গার্গী চ্যাটার্জি, খড়দায় দেবজ্যোতি দাস, দমদমে ময়ুখ বিশ্বাস, দমদম উত্তরে দীপ্সিতা ধর, রায়দিঘিতে সাম্য গাঙ্গলি, কসবায় দীপু দাস, সোনারপুর উত্তরে মোনালিসা সিনহা, মহেশতলায় সায়ন ব্যানার্জি, কলকাতা বন্দরে ফৌয়াজ খান, বরানগরে সায়নদীপ মিত্র, কামারহাটিতে মানস মুখার্জি, রানিবাঁধে দেবলীনা হেমব্রম, নানুরে শ্যামলী প্রধান, নারায়ণগড়ে তাপস সিনহা, শ্রীরামপুরে নবনীতা চক্রবর্তী, মেদিনীপুর আসন থেকে সুশ্রীতা সোরেনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মুজফফর আহমেদ ভবনে বামফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিমান বসু। সেখানেই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)–এর সঙ্গে জোট হয়েছে বামেদের। সেই কারণে এই নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকীর দলকে আসন ছাড়া হবে। তবে কত আসন তাদের ছাড়া হবে তা এখনও জানা যায়নি।
এদিন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবারের লড়াই দেশের নয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি বিজেপি এবং রাজ্যের স্বৈরাচারি তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রাজ্যের মানুষকে দুর্দশা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য রাজ্যে বামপন্থার পুনরুত্থান দরকার। এখনও অনেক ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তাঁদের বাদ দিয়ে ভোট করা যাবে না। ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রের কথা বলা শোভা পায় না।’
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম ভোট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করব। আমরা তা করেছি। কমিশনকে মনে রাখতে হবে ভোটারকে বাদ দিয়ে কখনও ভোটের প্রক্রিয়া চলতে পারে না। এই কমিশন এবং রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের আধিকারিকরা সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি করতে ব্যর্থ। তাই আজ বিচার বিভাগকে তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমরা বলছি আগে তালিকা তারপর ভোট।’ তিনি জানান, সংবিধান ভোট দেওয়ার ও ভোটে লড়াই করার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু যাঁর নাম বিবেচনাধীন তালিকায় তিনি কীভাবে ভোট দেবেন বা ভোটে দাঁড়াবেন? সেলিম জানিয়েছেন, তাঁরা এই বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হবেন।