হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাথাভাঙা সেতু, নদীতে সেতুর আছড়ে পড়ায় আলোড়ন চরমে

Mathabhanga Bridge Collapsed Photo-SNS

কোচবিহার জেলার মাথাভাঙায় ভেঙে পড়ল সেতু। রবিবাসরীয় সকালে ভেরভেরি নদীর উপরে থাকা সেতুটি আছড়ে পড়ল। এভাবে সেতু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে উত্তরবঙ্গের এই জেলায়। দীর্ঘদিনের পুরনো সেতুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। এই সেতু বামফ্রন্ট সরকারের জমানায় তৈরি হয়েছিল। ট্রাক-সহ সেই সেতুই এদিন ভেঙে পড়ল নদীতে। তার জেরে যান চলাচল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় কোচবিহারের একটা অংশে। মাথাভাঙা এলাকা থেকে গাড়িটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েতের খড়িকাবাড়ি এলাকায় রবিবার সকালে সেতুর উপর দিয়ে একটি মালবোঝাই ট্রাক যাচ্ছিল। তখনই মাঝামাঝি অংশ থেকে সেতুটি ভেঙে পড়ে। মালবোঝাই ট্রাকের অতিরিক্ত ভার নিতে পারেনি সেতুটি। তাই ভেঙে পড়ে। এই সেতু আগে রক্ষণাবেক্ষণ হলেও বেশ কয়েকমাস যাবৎ তেমন রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। নদীর দু’প্রান্তের মানুষজনের যোগাযোগের জন্য এই সেতু তৈরি হয়েছিল। এদিন সকালে ওই সেতুর উপর দিয়ে একটি সারের বস্তা বোঝাই ট্রাক যাচ্ছিল। সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় মাঝ নদীতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাক -সহ সেতুর একটা অংশ নদীর জলে পড়ে যায়। সেতুর অন্য অংশ বিপজ্জনকভাবে ঝুলতে থাকে।

এই সেতু ভেঙে পড়তেই প্রবল আওয়াজ হয়। তা শুনতে পেয়ে সেখানে ছুটে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা এসে দেখেন, জলের মধ্যে ট্রাকটি আটকে আছে। কোনওমতে ওই গাড়ির চালককে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেতু ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ট্রাকটিকে উপরে তোলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কেন ভেঙে পড়ল সেতু? সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কি আগে করা হয়নি? কতদিন রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি? এসব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ১৯৯৭ সালে এই সেতু তৈরি হয়েছিল। সেটি এবার ভেঙে পড়ায় যাতায়াতের লাইফলাইন নষ্ট হল বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।


এই সেতুর ভারবহন ক্ষমতা কমতে শুরু করেছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল সেটা বোঝাই যাচ্ছে। গোটা ঘটনা নিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, ‘সেতুটি অনেকদিন ধরেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেতুর পিলারগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় বিধায়ককে জানানো হয় সেতুটি মেরামত করা বা নতুন করে তৈরি করার জন্য। কিন্তু সেটা করা হয়নি। আমরা আবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানাব।’