পশ্চিম সিকিমের রিম্বিতে ভয়াবহ ধস, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ‘পরিস্থিতি খারাপ’ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

West Sikkim Landslide Photo-SNS

নাগাড়ে ভারী বৃষ্টির জেরে পশ্চিম সিকিমের রিম্বি এলাকায় ভয়াবহ ধস নেমেছে। ধসে অন্তত ৩০টিরও বেশি বাড়ির ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখন যা পরিস্থিতি তাতে বলা যায়, ধসের ভয়াবহতায় সিকিমের মানচিত্র থেকে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে রিম্বি গ্রাম। গতকাল রাতেই পশ্চিম সিকিমের ইয়াকসাম-তাশিডিং কেন্দ্রের অন্তর্গত রিম্বি গ্রামে বড় ভূমিধস হয়। আর সেই ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় সরকারি আবাসন-সহ একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে খবর। তবে এখনও কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া মেলেনি।

এই ধসে বিধ্বস্ত সিকিমের ‘পরিস্থিতি খারাপ’ বলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। তবে রিম্বির মতো পশ্চিম সিকিমের জোড়থাং থেকে ডেনতামের রাস্তাতেও কাদার স্রোত নেমেছে। পাহাড়ের ঢাল থেকে নেমে আসা কাদা, পাথর এবং ধ্বংসাবশেষ একাধিক বাড়ি ভেঙে দিয়েছে বলে খবর। আর স্থানীয় রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ধসের জেরে বহু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আর তার ফলে উদ্ধার এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এখন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।

সিকিমের লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল এবং বর্দাংয়ে আবার ধস নেমেছে। জাতীয় সড়কের ওই দুই অংশ বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। তার জেরে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ওই রাজ্যে আরও কিছু রাস্তা বন্ধ করতে হয়েছে। একইরকমভাবে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার কিছু জায়গাতেও ধস নেমেছে। গাছ পড়ে যাওয়ায় কালিম্পংয়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। পেলিং থেকে আরও পশ্চিমের দিকে গেলে রিম্বি গ্রাম মেলে। সেখান থেকেই ইয়াকসাং যাওয়া হয়। প্রচুর পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। এবার ভয়াবহ ধস নামল রিম্বিতে।


গত একমাস ধরেই রিম্বি গ্রামে লাগাতার ধস নামছে। ইতিমধ্যেই বহু বাড়িঘর ধসে গিয়েছে। এমনকী এখন নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে রিম্বি থেকে ইয়াকসাং যাওয়ার রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ব্যাপক ধসের জেরে অনেক বাড়ি নতুন করে কাদামাটির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার সকালে নতুন করে পাহাড় থেকে কাদার স্রোত নেমে আসতেই আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা খরস্রোতা জল আরও একবার অস্থায়ী পাইপের সেতু ভেঙে দিয়েছে। তার ফলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের যোগাযোগ ব্যবস্থাকারী পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। উত্তরবঙ্গের দুধিয়ায় হিউম পাইপের অস্থায়ী সেতু ভেসে গেল। এই নিয়ে তৃতীয়বার ভেসে গেল এই অস্থায়ী সেতু।