ফলতায় একাধিক ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটে। এই অভিযোগের পরেই কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই নতুন করে ভোটগ্রহণ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যবেক্ষকদের পাঠানো বিস্তারিত রিপোর্ট যাচাই করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
বুধবার রাজ্যের মোট ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার ভোট চলছে। দিনভর বিভিন্ন জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন অশান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্র। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা অভিযোগ করেন, একাধিক ইভিএমে নির্দিষ্ট বোতামের উপর সেলোটেপ লাগিয়ে তা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে না পারেন। তাঁর দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা। তিনি অবিলম্বে কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
এই অভিযোগ সামনে আসার পরই নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেসব বুথে ইভিএমে টেপ লাগানোর অভিযোগ প্রমাণিত হবে, সেখানে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। যদি দেখা যায় একাধিক বুথে এমন ঘটনা ঘটেছে, তাহলে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এই ধরনের অভিযোগ একটি বুথেই পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া না এলেও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফলতা কেন্দ্র তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের প্রভাবশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভোটের আগে এখানে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা রুটমার্চও করেন। এমনকি কয়েকদিন আগেই তিনি এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন অভিযোগ আরও গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এখন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।