কেটে গিয়েছে প্রায় ৬ বছর। এখন ব্যারাকপুরে প্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি প্রয়াত বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা। এবার তাঁর বাবা চন্দ্রমণি শুক্লাকে ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কদিন আগেই মণীশ শুক্লার খুনে জড়িত নামের ব্যক্তিদের বিজেপির মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। যা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তারপরই খুনের হুমকি পেলেন প্রয়াত মণীশের বাবা। তারপরই এই ঘটনায় খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন চন্দ্রমণিবাবু। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকেও বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, চন্দ্রমণি শুক্লাকে টিটাগড় পুরসভার চেয়ারম্যান হওয়ার লোভে রাজনীতি করছেন বলেও কটাক্ষ করা হয়। ফোন করে এসবই তাঁকে বলা হয়েছে। এমন হুমকি ফোন পেয়ে তিনি রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। চন্দ্রমণি শুক্লা পেশায় চিকিৎসক। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। প্রায় ৬ বছর আগে তিনি ছেলেকে হারিয়েছেন। ছেলে মণীশ শুক্লা রাজনীতি করতেন। তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। চন্দ্রমণি শুক্লার অভিযোগ, কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক বৈঠক করার পর থেকেই হুমকি আসতে শুরু করে। ‘অরবিন্দ পাল’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি জার্মানি থেকে ভয়েস কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে হুমকি দেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে ব্যারাকপুরে।
এমনকী চন্দ্রমণি শুক্লার দাবি, ওই ভয়েস কল জার্মানি নয়, স্থানীয় কোনও দুষ্কৃতী এসবের পিছনে রয়েছে। চন্দ্রমণি শুক্লা সংবদমাধ্যমে বলেন, ‘মেসেজে বলা হয়েছে, আমি ছেলের লাশের উপর রাজনীতি করছি। দলীয় নেতা সন্তোষ সিংয়ের সঙ্গে থাকলে মেরে শেষ করে দেওয়া হবে।’ ২০২০ সালে টিটাগড়ের বিজেপি কার্যালয়ের সামনে খুন করা হয় মণীশ শুক্লাকে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয় তাঁকে। এই খুনের ঘটনায় তদন্তে উঠে আসে মণীশ শুক্লাকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করানো হয়েছে। এই ঘটনায় নাম জড়ায় ব্যারাকপুরের তৎকালীন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীর।
কিন্তু এখন এঁদের দেখা গিয়েছে বিজেপির মঞ্চে। যা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। এদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক বৈঠক করেন কৌস্তভ বাগচী। তাঁর অভিযোগ, তখন শাসক শিবিরে থাকার ফলে উত্তম এবং প্রশান্তর কোনও শাস্তি হয়নি। তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিলে তিনি আত্মহত্যা করারও হুঁশিয়ারি দেন। তার একটি পালটা সাংবাদিক বৈঠক করেন মণীশের বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা। তাঁর দাবি, ব্যারাকপুরে রাজনীতি করতে হলে তাঁর ছেলের নামের দরকার আছে। একসময়ে ছেলের খুনের মামলা লড়তে তিনি নিজে কৌস্তভের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু কৌস্তভ রাজি হননি। এখন মণীশের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছেন। এরপরই তাঁর কাছে এল হুমকি ফোন বলে অভিযোগ চন্দ্রমণি শুক্লার।