ভোটার তালিকা নিয়ে ভবানীপুরে কাউন্সিলর-বিএলএদের ‘ওয়ার রুম’ বার্তা মমতার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা ও অভিযোগের আবহে দিল্লি সফরের ঠিক আগেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে নিজের বাসভবনে ভবানীপুরের কাউন্সিলর এবং বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) নিয়ে একটি  জরুরি ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে গাফিলতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের ঘাটতি নিয়ে কার্যত ভর্ৎসনার সুরে কথা বলেন দলনেত্রী।

বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পরেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এসেও বহু সাধারণ মানুষ অযথা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। কাউন্সিলর ও বিএলএদের উদ্দেশে তিনি জানান, ফিল্ডে কাজ ঠিকভাবে না হলে তার দায় সংগঠনকেই নিতে হবে।

প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, দেবাশিস কুমার, অসীম বসু ও সন্দীপরঞ্জন বক্সির মতো  নেতারা। বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, তাঁর কাছে রিপোর্ট এসেছে যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে না।


বিশেষ করে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইচ্ছাকৃতভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে কড়া সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী পাশাপাশি ৬৩ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে সংগঠনের কাজ আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মমতার বার্তা ছিল একেবারে স্পষ্ট—“কোথাও কোনও কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না।”

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে এবং যাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, এই দুই শ্রেণির ভোটারের পৃথক পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত তাঁর কাছে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিন কর্মীদের দিন-রাত এক করে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যাচাই ও স্ক্রুটিনির কাজ আরও ভালোভাবে করতে হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং গতি বাড়াতে প্রতিদিনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। সমস্ত কাউন্সিলরকে তাঁদের দৈনন্দিন কাজের রিপোর্ট মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও দেবাশিস কুমারের কাছে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে পৌঁছবে বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে এবারের নির্বাচনকে ‘দূরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই’ বলে অভিহিত করে কর্মীদের উদ্দেশে লড়াইয়ের ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে দলীয় নির্দেশ মেনে কেউই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা ইস্যুতেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়তে চলেছে, আর তারই প্রস্তুতি হিসেবে সংগঠনের উপর এই কড়া নজরদারি শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী।