১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে, অর্থাৎ প্রেম দিবস। ভালোবাসার আলাদা কোনও দিন হয়না বলে অনেকেই বলে থাকেন। আবার অনেকের মতে একটা বিশেষ দিন থাকলে ক্ষতি কী? বিশ্বজুড়ে এই দিনটিকে প্রেম দিবস হিসেবে উদযাপন করে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা সকল ব্যক্তি। শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি এই প্রেমময় দিনটির বিশেষত্ব সমাজমাধ্যমে তুলে ধরলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এক্স হ্যান্ডলে এই প্রেম দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার দুটি পঙক্তি লিখেছেন। আবার শেষে লিখেছেন ‘ভালোবাসা দীর্ঘজীবী হোক।’ এদিন তাঁর বার্তায় তিনি তুলে ধরেছেন মানবিকতার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা। তবে এই প্রথম এক রাজনীতিবিদ ও মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন। এর আগে তাঁকে এমন কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। সেকারণে সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর এমন বার্তা নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনীতি মহল।
বিশেষ বিশেষ দিনে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এই প্রথম তিনি শুভেচ্ছা বার্তা দিলেন। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কবিতার লাইন তুলে ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথ ছাড়া যে বাঙালির প্রেম, ভালোবাসা অসম্পূর্ণ তা আরও একবার প্রমাণ করে শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।’ এরপরে তিনি এই প্রেমদিবসের ব্যাপকতা নিয়ে ব্যাখা দিয়েছেন। আবার তিনি লিখেছেন, ভালবাসা সবসময় জাত, ধর্ম, বর্ণের ঊর্ধ্বে। তিনি যে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন, তার নেপথ্যেও রয়েছে অকৃত্রিম ভালবাসাই। যে ভালোবাসা মানুষকে ঝড়ঝাপটা সামলাতে শেখায়। ধৈর্য ধরে মানুষের কথা শুনতে শেখায়। আবার ন্যায় ও মর্যাদার লড়াইয়ে দৃঢ় থাকতে শেখায়। এরপর শেষে তিনি এই প্রেম দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভালোবাসা যাতে দীর্ঘজীবি হয় তার কামনা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সমাজমাধ্যমে এই শুভেচ্ছাবার্তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমাজমাধ্যমে তাঁর পোস্ট করার পরে রাজনৈতিক দলগুলির তরফে প্রতিক্রিয়া এসেছে। অনেকের বক্তব্য, ভালোবাসার আড়ালে আসন্ন নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক স্বার্থে এই শুভেচ্ছা। তাঁর এই শুভেচ্ছায় বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায়ের বক্তব্য, ‘আমরা যারা ভারতীয়, তাদের কাছে ভালবাসা ৩৬৫ দিনের। আলাদা করে ১৪ ফেব্রুয়ারির কোনও গুরুত্ব নেই।’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘আমাদের ছাত্র সংগঠন এসএফআই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছেই ভালবাসার ইস্তাহার নামে প্রগতিশীল সাহিত্যের স্টল খুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী ওখানে একবার ঘুরে যেতে পারেন।’