ফের ধাক্কা মমতা শিবিরে। নন্দীগ্রামের পর এবার রেজিনগরে মনোনয়ন তুলে নিলেন মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী (Rabiul Alam Chowdhury)। উপনির্বাচনের আগে পরপর দুই কেন্দ্রে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন মমতা শিবিরের প্রার্থীরা। আজ অর্থাৎ শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। নতুন করে মনোনয়ন আর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগও নেই। আর এই শেষদিনেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে নিজের প্রার্থীপদ তুলে নিলেন রবিউল (Rabiul Alam Chowdhury)। ফলে নন্দীগ্রামের মতো রেজিনগরেও মমতা-শিবিরের (Mamata All India TMC) কোনও প্রার্থী রইল না।
রবিউল (Rabiul Alam Chowdhury) দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কর্মীদের নিয়ে প্রচারে নামা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি দলের কর্মীদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছিল এবং কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে ভোটে লড়াই করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata All India TMC) সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: মমতা সমর্থন করতেই গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী, খুনের মামলায় পাকড়াও মিলন
গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের (Mamata All India TMC) প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহর করে নেন। পরে মমতা ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মিলকে সমর্থন জানান। সমর্থন জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৯ বছরের পুরনো একটি খুনের মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্যেই রেজিনগরের প্রার্থী বরিউলের (Rabiul Alam Chowdhury) মনোনয়ন প্রত্যাহার নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। শুক্রবার নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (Mamata All India TMC) নাম দেন এবং প্রতীক হিসেবে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ দেওয়া হয়। ঋতব্রত শিবিরকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়।
রবিউলের (Rabiul Alam Chowdhury) এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশের আগে থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে প্রচারে সমস্যা হতে পারে এবং তিনি প্রার্থীপদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। শুক্রবার তিনি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকও করেন বলে খবর। শেষ পর্যন্ত তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, রেজিনগরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মমতা শিবিরকে (Mamata All India TMC) আক্রমণ করেছে ঋতব্রত শিবির। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, নন্দীগ্রামের পর এবার রেজিনগরেও মমতা শিবিরের প্রার্থী সরে দাঁড়ালেন। টেন পাস নেতা বলেছিলেন নন্দীগ্রামে অঘটন ঘটাবেন। গতকাল নন্দীগ্রামে আর শনিবার রেজিনগরে প্রার্থী অঘটন ঘটালেন। নেত্রী ময়দানে গোল দিতে নেমে সেমসাইডে দিয়ে দিয়েছেন।
৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। পর পর দুই কেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলনের মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata All India TMC) আইনি লড়াইও জারি রয়েছে।
দেখুন: ‘রেজিনগরে ফুটবল খেলা হবে কি না, আমি কী করে বলব’, ঋতব্রত