হেলিকপ্টারে ধাক্কা লাগলে প্রাণ যেত, ড্রোন-কাণ্ডে বিস্ফোরক মমতা, ভোটের মুখে চাঞ্চল্য

 ভোটের আবহে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সম্প্রতি মালদহ সফরের সময় একটি ড্রোন ওড়ানো হয়েছিল, যার জেরে তাঁর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারত। এমনকি তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার লক্ষ্যেই ওই ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ে একটি নির্বাচনী সভা থেকে এই প্রসঙ্গে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমি যখন মালদহ থেকে মিটিং করে ফিরছিলাম, তখন আমার হেলিকপ্টারের সামনে একটি ড্রোন ঘুরছিল। ধাক্কা লাগলে হেলিকপ্টারটা ধ্বংস হয়ে যেত। কারা ওড়াচ্ছিল? বিহারের তিনজন ধরা পড়েছে। টার্গেটটা কী? আমার জীবন কেড়ে নেওয়া?”তিনি আরও বলেন, “আমাকে মেরে ফেলতে চাইলে ফেলুন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকব, আপনাদের বিরুদ্ধে গলা তুলব।
আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না।” সূত্রের খবর, মালতীপুরে সভায় যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নজরে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এই ঘটনায় সরাসরি কারও নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, কয়েকদিন আগেই রাজ্যে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছেন। তাঁর কথায়, “এই ভিকটিম কার্ডের রাজনীতি বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে। এভাবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা বাংলার সংস্কৃতি নয়।” ড্রোন-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ভোটের আগে এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।