প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বেসুরো সুর শোনা যাচ্ছিল। রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। দলীয় সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন এবং একপ্রকার বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার ঘোষণা এবং স্থানীয় স্তরে একাধিক নেতার পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার ফলে পরিস্থিতি আরও জটল হয়ে উঠেছিল।
তবে তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ফোন করেন রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ককে। এর পর থেকেই বরফ গলতে শুরু করে। ফোনে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই বদলে যায় খগেশ্বর রায়ের অবস্থান। তিনি জানান, ‘দিদির কথা আমি অমান্য করতে পারব না। তাই দলেই থাকছি এবং দলের হয়েই কাজ করব।‘ দীর্ঘদিনের অভিমান যেন এক ফোনেই অনেকটাই প্রশমিত হয়।
খগেশ্বর রায় রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের চারবারের বিধায়ক। ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে প্রথম জয় পান। এর পর থেকেই শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা। এরপর ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও পরপর তিনবার তিনি জয়ী হন। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাট থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী তালিকায় খগেশ্বর রায়ের নাম না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।
দলের পক্ষ থেকে এবার রাজগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী করা হয়েছে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি খগেশ্বর রায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, টাকার বিনিময়ে টিকিট বণ্টন হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হয়েছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলাই প্রাধান্য পেল। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে তিনি এখন আবার দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি জানিয়েছেন যে নতুন প্রার্থীর হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারও করবেন। তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।